
পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই মারকাটারি অ্যাকশন আর হাড়হিম করা কিছু সিন। ‘কেজিএফ’-এর সাফল্যের পর থেকেই ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার যশের পরবর্তী ধামাকার জন্য। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসতে চলেছে তাঁর নতুন ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোনআপস’ (Toxic: A Fairytale for Grownups)। তবে যাঁরা ভাবছেন এটি নিছকই আর একটা গ্যাংস্টার মুভি হতে চলেছে, তাঁদের জন্য এক বড়সড় চমক দিলেন অভিনেতা নিজেই।
সম্প্রতি সিনেমাকন ২০২৬-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে যশ স্পষ্ট করে দিলেন, ‘টক্সিক’ গ্যাংস্টারের গল্প নয়। এটি মানুষের মনের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান। অভিনেতার কথায়, “বাইরে থেকে দেখলে একে সাধারণ গ্যাংস্টার ড্রামা মনে হতে পারে, কিন্তু এর পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে গভীর মনস্তত্ত্ব। মানুষের জীবনের এমন কিছু দিক এখানে তুলে ধরা হয়েছে, যা দর্শকদের ভাবাবে।” সহজ কথায়, রকি ভাই এবার কেবল অ্যাকশনে নয়, বরং মস্তিষ্কের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন।
এই ছবির সাফল্যের পিছনে অন্যতম কারিগর পরিচালক গীতু মোহন্দাস। যশ জানিয়েছেন, গীতুর ভাবনাই এই ছবিকে অন্যান্য অ্যাকশন মুভি থেকে আলাদা করে দিয়েছে। গ্যাংস্টার প্রেক্ষাপট থাকলেও তার মধ্যে ‘টুইস্ট’ যোগ করেছেন তিনি। যশ নিজেও নিজের চরিত্রের অন্ধকার দিক বা ‘ডার্ক শেড’ নিয়ে দারুণ উত্তেজিত। অভিনেতার মতে, ধূসর চরিত্রে অভিনয়ের কোনো সীমারেখা থাকে না, আর সেখানেই একজন শিল্পীর আসল আনন্দ।
বক্স অফিসে মেগা লড়াই এড়াতেই কি পিছিয়ে গেল ছবি?
প্রথমে শোনা গিয়েছিল, রণবীর সিং-এর ‘ধুরন্ধর ২’-এর সঙ্গে বড়পর্দায় টক্কর হবে যশের। কিন্তু নির্মাতারা তাড়াহুড়ো না করে ছবির মুক্তির দিন পিছিয়ে দিয়েছেন ৪ জুন। টক্কর এড়ানোই হোক বা ছবির গুণগত মান বাড়ানো— ভক্তদের উত্তেজনা কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র কমেনি।
শুধু যশ নন, এই ছবিকে ঘিরে উত্তেজনার আরও এক বড় কারণ এর তারকাখচিত কাস্ট। নয়নতারা থেকে শুরু করে কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্ত— একই ফ্রেমে দেখা যাবে এতজন প্রথম সারির তারকাকে। কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় শুট করা হলেও ছবিটি বাংলা, হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষাতেও ডাব করে মুক্তি পাবে। সব মিলিয়ে জুনের গরমে বক্স অফিসের পারদ যে কয়েক গুণ চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।