Reliance Jio: ব্রডব্যান্ড থেকে ফাইভ জি, Jio-র সামনে কী কী সম্ভাবনা!
এই বৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলো দ্রুত বিকাশমান বাজারের প্রেক্ষাপটে কাজ করছে। এসএমসি গ্লোবাল (SMC Global)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ভারতের টেলিকম এবং ডিজিটাল পরিষেবা খাত "বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্র, যা বিপুল ডেটা ব্যবহার, দ্রুত গতিতে ৫জি পরিষেবা চালু এবং ফাইবার ব্রডব্যান্ডের ক্রমবর্ধমান বিস্তারের ওপর ভর করে এগিয়ে চলেছে।

জিও প্লাটফর্ম লিমিটেড বর্তমানে দেশের সবথেকে বড় ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সংস্থা। আগামী ২১ অক্টোবর জিও-র আইপিও খোলার আগে সামনে এল ব্রোকারেজ সংস্থাগুলির বিশ্লেষণ। তুলে ধরা হল, জিও-র সামনে ঠিক কী কী সম্ভাবনা রয়েছে।
২৬১ মিলিয়ন গ্রাহকের আপগ্রেড করানোর সুযোগ রয়েছে
২০২৬ সালের জুন মাসে জিও-র (Jio) গ্রাহক সংখ্যা ৫৩৩.৩ মিলিয়নে পৌঁছে গিয়েছিল। সম্ভাব্য গ্রাহকদের একটি বিশাল বাজার এখনও রয়ে গিয়েছে। GEPL Capital-এর দেওয়া তথ্য বলছে, “২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২৬১.০ মিলিয়ন গ্রাহক এখনও ২জি (2G) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। ফলে ৭৯৯ টাকার ‘জিও ভারত’ (JioBharat) ফোনের মতো সাশ্রয়ী অফারের মাধ্যমে নতুন গ্রাহক যুক্ত করার একটি বড় সুযোগ সংস্থার সামনে রয়েছে।”
পাশাপাশি গ্রাহকদের খরচের পরিমাণও বাড়ছে। প্রতি গ্রাহক পিছু গড় আয় (ARPU) যেখানে ২০২৪ আর্থিক বছরে (FY24) ছিল ১৮১.৭ টাকা, ২০২৭-এর আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ২১৫.৬ টাকা। সেই সঙ্গে প্রতি গ্রাহকের মাসিক ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪৩.৭ জিবি (GB)।
GEPL জানিয়েছে যে, সংস্থার পরিকল্পনা রয়েছে, ট্যারিফ পরিবর্তন, প্রিমিয়াম প্ল্যানের ব্যবহার এবং ওটিটি (OTT), ক্লাউড স্টোরেজ, গেমিং ও এআই (AI) ভিত্তিক পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহক পিছু গড় আয় (ARPU) আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে।”
হোম ব্রডব্যান্ডে বিস্তারের সুযোগ
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত জিও ফাইবার এবং জিওএয়ারফাইবারের মোট গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২৮.৬ মিলিয়ন। সেখানেই বৃদ্ধির প্রচুর সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। GEPL-এর মতে, হোম ব্রডব্যান্ড হল আর একটি চালিকাশক্তি। ২০২৬ আর্থিক বছরে ভারতে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের সুযোগ ছিল প্রায় ২১ শতাংশ। ২০৩১ আর্থিক বছরের মধ্যে সেটা বেড়ে প্রায় ৪৬ শতাংশে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে জিওফাইবার এবং জিওএয়ারফাইবার সুসংহত অবস্থানে রয়েছে।”
SMC Global আরও বলছে, জিও-র ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস সার্ভিস ‘জিওএয়ারফাইবার’-এর সম্প্রসারণ এমন সব অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে ফাইবার ক্যাবল বসানো কঠিন বা ব্যয়বহুল। যেখানে পরিষেবা নেই, সেখানে পরিষেবা বৃদ্ধি পেলে তা জিও-র সম্ভাব্য গ্রাহক ভিত্তি আরও প্রসারিত করতে পারে।”
শুধুমাত্র একটি টেলিকম অপারেটর নয়, একটি এআই (AI) ও প্রযুক্তি সংস্থা
বিশ্লেষকরা বারবার জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেডকে (JPL) শুধুমাত্র একটি টেলিকম অপারেটর হিসেবে নয়, বরং একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। ভেঞ্চার সিকিউরিটিজ বলছে, জিও সম্পূর্ণ নিজস্ব ৫জি স্ট্যান্ড অ্যালোন স্ট্যাক তৈরি করেছে এবং ৪জি, ৫জি, ৬জি, এআই (AI) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ৭,২২০টি পেটেন্টের আবেদন করেছে। এর নিজস্ব এআই প্ল্যাটফর্ম ‘জিওব্রেন’ (JioBrain) বর্তমানে নেটওয়ার্ক অপারেশন্সে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এটি তাদের সামগ্রিক প্রযুক্তিগত ব্যবসায়িক আয়ের (Technology monetization) কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
এসএমসি গ্লোবাল (SMC Global) এই ধরনের পদক্ষেপে বড় সম্ভাবনা দেখছে। তারা বলছে, যেহেতু টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা দিন দিন ক্লাউড কম্পিউটিং, এআই এবং এন্টারপ্রাইজ ডিজিটাল সলিউশনের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত হচ্ছে, তাই তাদের এই নিজস্ব প্ল্যাটফর্মগুলো প্রথাগত কানেক্টিভিটি পরিষেবার বাইরে গিয়ে ব্যবসার বিস্তার এবং নতুন আয়ের পথ তৈরি করার সুযোগ এনে দিতে পারে।
তারা আরও বলেন যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের পরিচালন সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে এবং গ্রাহকদের ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
ভারতীয় প্রযুক্তিকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়া
জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেড (JPL) তাদের নিজস্ব তৈরি প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে। GEPL Capital-এর মতে, “আন্তর্জাতিক টেলিকম অপারেটরদের সঙ্গে শেয়ার এবং নিজস্ব ৫জি কোর (5G core), ক্লাউড-নেটিভ র্যান (cloud-native RAN), ওএসএস/বিএসএস (OSS/BSS) ও ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের (Monetisation) মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পা রাখা সম্ভব। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ কানেক্টিভিটি পরিষেবার বাইরে অতিরিক্ত আয়ের নতুন পথ তৈরি করতে পারে। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, জিও প্ল্যাটফর্মস তাদের ‘জিওব্রেন’ (JioBrain) এআই প্ল্যাটফর্ম বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা টেলিকম অপারেটর ও অন্যান্য শিল্পখাতে সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে।
এসএমসি গ্লোবাল জানিয়েছে যে, এই মডেলটির মাধ্যমে জিও সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো বিশ্বের অন্যান্য দেশে নতুন করে না বানিয়েও ভারতের বাইরে ব্যবসা বিস্তার করতে পারবে।
একটি ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতি
এই বৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলো দ্রুত বিকাশমান বাজারের প্রেক্ষাপটে কাজ করছে। এসএমসি গ্লোবাল (SMC Global)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ভারতের টেলিকম এবং ডিজিটাল পরিষেবা খাত “বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্র, যা বিপুল ডেটা ব্যবহার, দ্রুত গতিতে ৫জি পরিষেবা চালু এবং ফাইবার ব্রডব্যান্ডের ক্রমবর্ধমান বিস্তারের ওপর ভর করে এগিয়ে চলেছে। GEPL-এর রিপোর্টে দেওয়া শিল্পের উপাত্ত অনুযায়ী, ভারতে মোবাইল ব্রডব্যান্ডের প্রতি ব্যবহারকারী পিছু গড় আয় (ARPU) ২০২৬ আর্থিক বছরে (FY26) ১৯৯.৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০৩১ আর্থিক বছরের (FY31) মধ্যে ৩২৬.৪ টাকায় পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
GEPL জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে, কোম্পানির কৌশল গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি, গড় আয় (ARPU) বাড়ানো, ডিজিটাল পরিষেবার বিস্তার এবং এন্টারপ্রাইজ ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি পরিষেবার মাধ্যমে আয়ের উৎস বহুমুখী করার ওপর জোর দিচ্ছে—যা দীর্ঘমেয়াদে আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং টেকসই মুনাফা অর্জনে সহায়তা করতে পারে।
Jio’s growth levers in numbers
| বিষয় | তথ্য / সংখ্যা |
| মোট গ্রাহক সংখ্যা (জুন ২০২৬) |
৫৩৩.৩ মিলিয়ন
|
| ৫জি গ্রাহক (5G customers) |
২৮৪.৯ মিলিয়ন
|
| এখনও ২জি ব্যবহারকারী (পুরো শিল্পে) |
২৬১.০ মিলিয়ন
|
| ফিক্সড ব্রডব্যান্ড গ্রাহক |
২৮.৬ মিলিয়ন (যার মধ্যে ১৪.০ মিলিয়ন জিওএয়ারফাইবার)
|
| ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের বিস্তার (Penetration) |
২০২৬ আর্থিক বছরে ~২১%, যা ২০৩১ আর্থিক বছরে ~৪৬% পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে
|
| গড় আয় (ARPU) |
১৮১.৭ টাকা (FY24) থেকে বেড়ে ২১৫.৬ টাকা (Q1FY27)
|
| জমা দেওয়া পেটেন্ট আবেদন |
৭,২২০টি (১,০৪৩টি অনুমোদিত)
|
