Jio IPO: জিও-র অ্যাঙ্কর বুকের জন্য ৩০ গুণেরও বেশি চাহিদা, বাজি ধরল মিউচুয়াল ফান্ড ও বিমা সংস্থাগুলি
Jio IPO Anchor Book Oversubscribed: মনে করা হচ্ছে, এটি হতে পারে ভারতের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আইপিও। প্রাইস ব্যান্ডের সর্বোচ্চ স্তরে সংস্থাটির মূল্যায়ন প্রায় ১০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারী হলেন সেই সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, যাঁদের আইপিও-র মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য শেয়ার কেনার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই শেয়ার বরাদ্দ করা হয়।

জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার চাহিদা এসেছে। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের এই সহযোগী সংস্থার শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে সংস্থাটির শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন সম্পদ পরিচালনাকারী সংস্থা, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল, দেশীয় মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিমা সংস্থাগুলি। এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল সূত্রের খবর, জিও-র ৮,১১০ কোটি টাকার ‘অ্যাঙ্কর বুক’-এর জন্য নির্ধারিত শেয়ারের তুলনায় ৩০ গুণেরও বেশি চাহিদা এসেছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-
বিনিয়োগকারীদের এই বিপুল আগ্রহ থেকেই স্পষ্ট, টেলিকম ও ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবসা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কতটা উৎসাহ রয়েছে। বিশেষ করে, যখন সংস্থাটি আলাদাভাবে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২,৫০,০০০ কোটি টাকার চাহিদা এসেছে। প্রথমবার কোনও ভারতীয় আইপিও-তে চাহিদার অঙ্ক এই গুরুত্বপূর্ণ সীমা ছাড়াল বলে দাবি করা হচ্ছে। এই নজিরবিহীন সাড়া ভারতের প্রাথমিক মূলধন বাজারে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে।
কারা কারা দরপত্র জমা দিয়েছে?
অ্যাঙ্কর বুকের জন্য দরপত্র জমা দেওয়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাকরক (BlackRock), ক্যাপিটাল গ্রুপ, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস, টি. রো প্রাইস, শ্রোডার্স, জে পি মরগ্যান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, ফ্র্যাঙ্কলিন টেম্পলটন, ইনভেস্কো এবং জানুস হেন্ডারসন।
সূত্রের খবর, সিঙ্গাপুরের জিআইসি (GIC), আবু ধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি, কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি এবং নরওয়ের নর্জেস ব্যাঙ্ক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের মতো সার্বভৌম সম্পদ ও সরকারি বিনিয়োগ সংস্থাগুলিও এতে অংশ নিয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলিও। এসবিআই মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল মিউচুয়াল ফান্ড, এইচডিএফসি মিউচুয়াল ফান্ড, আদিত্য বিড়লা সান লাইফ মিউচুয়াল ফান্ড, নিপ্পন ইন্ডিয়া মিউচুয়াল ফান্ড এবং কোটাক মাহিন্দ্রা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মতো বড় মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থা এই আইপিওতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বিমা সংস্থা ও পেনশন ফান্ডেরও বাজি-
সূত্রের খবর, বিমা সংস্থা এবং পেনশন ফান্ডগুলিও এই আইপিওতে দরপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এলআইসি), এইচডিএফসি লাইফ ইনস্যুরেন্স, এসবিআই লাইফ ইনস্যুরেন্স, এসবিআই পেনশন ফান্ডস, এইচডিএফসি পেনশন এবং আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল।
দেশি ও বিদেশি—বিভিন্ন বিনিয়োগ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে।
৩০,২১৩ কোটি টাকার আইপিও-
আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ৩০,২১৩ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে জিও প্ল্যাটফর্মস। ২১ অক্টোবর এই আইপিও খুলবে এবং বন্ধ হবে ২৩ অক্টোবর। শেয়ারের দাম ধার্য করা হয়েছে ১,০৬৫ টাকা থেকে ১,১১৯ টাকার মধ্যে। এই অফারে সর্বোচ্চ ২৭ কোটি নতুন শেয়ার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ভারতের বৃহত্তম আইপিও হতে পারে-
মনে করা হচ্ছে, এটি ভারতের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আইপিও হতে পারে। প্রাইস ব্যান্ডের সর্বোচ্চ স্তরে সংস্থাটির মূল্যায়ন প্রায় ১০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। সংস্থার অফার ডকুমেন্ট অনুযায়ী, আইপিও থেকে পাওয়া অর্থের একাংশ টেলিকম সহযোগী সংস্থার ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি, অন্যান্য সাধারণ কর্পোরেট কাজেও এই অর্থের ব্যবহার করা হবে।
মোবাইল সংযোগের ব্যবসা থেকে ডিজিটাল পরিষেবায় সম্প্রসারণ-
শিল্পপতি মুকেশ অম্বানীর নিয়ন্ত্রণাধীন রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের জিও প্ল্যাটফর্মস মূল মোবাইল সংযোগের ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে ব্রডব্যান্ড, ডিজিটাল বিনোদন, ক্লাউড এবং এন্টারপ্রাইজ পরিষেবার ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে।
শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও সরাসরি এই ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এত দিন পর্যন্ত রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী সংস্থা হিসেবেই কাজ করত জিও প্ল্যাটফর্মস।
জিও-র গ্রাহক সংখ্যা কত?
সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত জিও-র গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৫৩৩.৩ মিলিয়ন বা প্রায় ৫৩.৩৩ কোটি। ভারতের মোট ডেটা ট্র্যাফিকের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল জিও-র দখলে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এই বিপুল আগ্রহ বৃহত্তর আইপিওতে তাঁদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে পারে।
অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারী হলেন সেই সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, যাঁদের আইপিওতে সাধারণ মানুষের জন্য সাবস্ক্রিপশন বা শেয়ার কেনার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই শেয়ার বরাদ্দ করা হয়। তাঁদের অংশগ্রহণ থেকে আইপিওটি নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটা ধারণা পাওয়া যায়। তবে শেয়ার বরাদ্দ, সংস্থার মূল্যায়ন এবং তালিকাভুক্তির পর বাজারে শেয়ারের পারফরম্যান্স—এই তিনটি বিষয় আলাদা।
