
শরীর আমাদের সবথেকে বড় সম্পদ। ছোট থেকে পরীক্ষার খাতায় যত না লেখা হয়েছে তার থেকে অনেক বেশি মানুষ এখন উপলব্ধি করছেন। কোভিড পরবর্তী সময় থেকে মানুষ নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হয়েছে। আজকাল ডায়াবেটিসের রোগী বাড়িতে বাড়িতে। নিঃশব্দে বাড়ছে সুগারে আক্রান্তের সংখ্যা। এর মূল কারণ আমাদের জীবনযাত্রা। ৮-৮০ সকলেই পড়ছে এই সুগারের কবলে। একটানা এক জায়গায় বসে কাজ, কোনও রকম শরীরচর্চা না করা, সারাদিন অতিরিক্ত ক্যালোরির খাবার খাওয়াতেই সুগার বাড়ছে। সুগার বাড়লে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও তার প্রভাব পড়ে। রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়লে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগা, তেষ্টা, মাথাব্যথা, মনযোগে সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, ওজন হঠাৎ করে কমে যাওয়া এগুলো সুগারের লক্ষণ।
কেন সুগার হয় তার সঠিক কোনও কারণ নেই। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন হরমোন ক্ষরিত হয়। সেই হরমোন যদি একেবারে কম পরিমাণে ক্ষরিত হয় বা একেবারেই না হয় তখন রক্তে বাড়তে থাকে শর্করার পরিমাণ। সুগার ডায়েট, ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় মাত্র তবে একে সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা যায় না। সুগার শুধু নিজে আসে না সেই সঙ্গে একাধিক রোগ ডেকে আনে। আর যাঁরা ডায়াবেটিসের রোগী তাঁরা সুগার নিয়ন্ত্রণে না রাখলে পরবর্তীতে অঙ্গ বিকল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। প্রত্যেকের উচিত ৬ মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা করা। যদি দেখেন যে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি আছে তাহলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সেই মত শরীরচর্চা করুন, ওষুধ খান।
যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাঁদের খাবারে কিছু বাধা নিষেধ থাকে। আর সেই সব মেনে চলতেই হবে। আর তাই যে সব খাবার নিয়ম করে রাখবেন-
ব্রাউন রাইস- ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ভাবে ব্রাউন রাইস খান। সাদা ভাত বা কুইনোয়ার মধ্যে ক্যালোরি অনেক বেশি থাকে। ব্রাউন রাইস শরীরের জন্য ভাল, রোজ তাই ব্রাউন রাইস খান। এতে শরীর ভাল থাকবে
ময়দার পরিবর্তে জোয়ার বা বাজরার আটা খান। মটরশুটি, বিভিন্ন ডাল বিশেষত মুসুর ডাল খান। ছোলার ডাল বা মুগের ডালও কিন্তু শরীরের জন্য বেশ উপকারী। শীতের বাজারে প্রচুর পালং শাক পাওয়া যাচ্ছে। তাই রোজ পালং শাক খেতে ভুলবেন না। পালং শাকের মধ্যে থাকে ভিটামিন আর ফাইবার যা শরীরের জন্য খুব ভাল। বিভিন্ন রকম বাদাম, আখরোট, অলিভ অয়েল এসব রাখতেও ভুলবেন না। বাঁধাকপি, ব্রকোলি, চিয়া সিড এসবও খেতে ভুলবেন না।
রক্তশর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রসুন, ডিমের কোনও তুলনা নেই। রোজ খান নিয়ম করে। এছাড়াও দারুচিনিও খুব ভাল কাজ করে। রোজ দারুচিনি ফুটিয়ে সেই জল ছেঁকেও খেতে পারেন।