
কোষ্ঠকাঠিন্য আদতে খুব সাধারণ সমস্যা হলেও একে এড়িয়ে যাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। খারাপ অভ্যাস, দীর্ঘক্ষণ কোথাও বসে থাকা, জীবনযাত্রার কারণেই এই সমস্যা বেশি হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা প্রথম থেকে না করালে পরবর্তীতে সেখান থেকে প্রাণঘাতী অসুখও হতে পারে। এই কোলন ক্যানসারের কারণও কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্য। অনেকেরই মল চেপে রাখার অভ্যাস থাকে। যা অত্যন্ত খারাপ। দিনের পর দিন অন্ত্রে মল জমতে থাকে। এর থেকে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, বমি, পেটে ব্যথা, খিঁচুনি, কৃমি, পেটের সংক্রমণ যা খুশি হতে পারে। দিনের পর দিন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে মল শক্ত হয়ে যায়, কিছুতেই তা আর পরিষ্কার হতে চায় না। যাঁরা নিয়মিত ভাবে তেল-মশলাদার খাবার খান, জাঙ্ক ফুড খান এবং মাংস খান তাঁদের এই সমস্যা সবচাইতে বেশি হয়।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা এই কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে বিশেষ একটি প্রতিকারের কথা বলেছেন। এই ওষুধ শুধুমাত্র কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় তাই নয়, আমবাত, ব্রণ আর কৃমির সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে পারে। সারা বসন্ত আর গরম জুড়ে এই গাছ খুব সুন্দর হলুদ ফুল দিয়েছে। রাস্তায়-ঘাটে এখনও দেখতে পাওয়া যায় এই গাছ। আয়ুর্বেদে এই গাছ রাজবৃক্ষ নামে পরিচিত আর বাংলায় তা আমলতাস হিসেবেই সকলে চেনে। হলুদ রঙের ফুলের জন্য একে সুবর্ণকও বলা হয়।
অমলতাসের ফুল যেমন দেখতে সুন্দর লাগে তেমনই এই ফলও খুব উপকারী। পাতার তলায় সবুজ রঙের ফল থাকে। পাকলে তার রং কালো হয়ে যায়। এই পাকা ফলের বীজ ছাড়ালে একটা আঠালো পাল্প পাওয়া যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এই ফলের পাল্প খুব ভাল কাজ করে।
আমবাত, ব্রণ আর কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় এই পাল্প ভীষণ ভাল কাজ করে। এক কাপ জলের মধ্যে এক চামচ এই পাল্প সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে তা ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে খান। সপ্তাহে তিনদিন তা খেতে পারেন। কৃমির জন্যও তা খুব ভাল। হাফ চামচ পাল্প, হাফ কাপ জলে ভিজিয়ে ২ বছরের শিশুকে দিতে পারেন।
আমলতাসের ফলের মধ্যে ল্যাক্সেটিভের পরিমাণ বেশি। কোষ্ঠকাঠিন্য, কৃমির সমস্যা, পায়ুদ্বারের ফোলাভাব থেকে মুক্তি দেয়। ত্বকে যদি কোনও সংক্রমণ হয়, একজিমা, ছত্রাকের সমস্যা থাকে তাহলে এই গাছের পাতা বেটে লাগান, কাজ হবেই।