
করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক এখনও কেউ ভোলেনি। বর্তমানে আবার একের পর এক ভাইরাস হানা দিয়েছে। গত কয়েক মাসে অনেক ধরনের ভাইরাস আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে ভারতে জিকা, চণ্ডীপুরা ভাইরাস এবং ডেঙ্গি আক্রান্তের ঘটনা বাড়ছে। এর মধ্যেই ব্রাজিলে কড়া নাড়ছে এক বিপজ্জনক ভাইরাস, যার নাম ওরোপাউচ ভাইরাস। মশা থেকে সংক্রমিত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ব্রাজিলে ২ মহিলার মৃত্যু হয়েছে। আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, এ বছর এখনও পর্যন্ত ব্রাজিলে প্রায় ৭ হাজার ওরোপাউচে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু মৃতদের শরীরে ওরোপাউচ ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। এই ভাইরাস আদতে কী? এর লক্ষণগুলি কী এবং কীভাবে প্রতিরোধ করতে পারি জেনে নিন।
ওরোপাউচ ভাইরাস নিয়ে খুব কম গবেষণা হয়েছে। এটি মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে, তার প্রমাণ মিলেছে। তবে একজন থেকে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণের বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের ঘটনা কম হলেও এটি বেশ বিপজ্জনক।
ওরোপাউচ ভাইরাস কি?
দিল্লির এক সিনিয়ার চিকিত্সক ডা. অজয় কুমার জানান, কয়েক দশক আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওরোপাউচ ভাইরাস পাওয়া গিয়েছিল। তারপর থেকে এই ভাইরাসে আক্রান্তের কিছু ঘটনা আসতে থাকে, তবে সেই সংখ্যা কম থাকে। এখন আবার এটি সক্রিয় হয়েছে এবং দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
ডাঃ কুমার জানান, ওরোপাউচ ভাইরাস মশা থেকে ছড়ানো একটি ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হওয়ার পর মৃদু জ্বর ও পেশিতে ব্যথা হয়। অনেকাংশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলি ডেঙ্গির মতোই, তবে এই জ্বরে দেহে ফোলাভাব দেখা যায়। এটা প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।
ওরোপাউচ ভাইরাসের কোনও প্রতিকার আছে কি?
ডা. কুমার জানান, ওরোপাউচ ভাইরাসের জন্য কোনও নির্ধারিত চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই। এই রোগে রোগীকে শুধুমাত্র উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা করা হয়। যেহেতু এই ভাইরাসে আক্রান্তের ঘটনা বিরল, তাই এটি নিয়ে কম গবেষণা করা হয়েছে।
কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায়?
ওরোপাউচ ভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হল, মশা থেকে দূরে থাকা। এর জন্য বাড়ির চারপাশে জল জমতে দেবেন না। ফুল হাতা জামা পরুন। মশারির ভিতর ঘুমান। আর আপনার যদি জ্বর থাকে এবং তিন দিন ধরে না কমে, তাহলে সিবিসি পরীক্ষা করান।