
দেহে হরমোনের তারতম্য এবং ক্লান্তির পরিমাণ, শরীরে এবং মনের উপর ধকল বেশি থাকায় পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি। মহিলাদের মধ্যে হার্টের আরও একটি অবস্থা দেখা যায় (চিকিৎসাবিজ্ঞান যদিও হার্ট বা হৃদয়ের অস্তিত্ব মানে না, বরং মেডিসিন বোঝে কার্ডিওলোজি), যা পুরুষদের মধ্যে হয় না বললেই চলে। ডাক্তারি ভাষায় একে ‘তাকসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি’ বলা হয়। পোশাকি নাম ‘ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম’। কী এই রোগ, এতে আক্রান্ত হলে কী ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় এবং এই রোগের চিকিৎসা কী, আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে।
মন ভাঙলে শারীরিক ভাবে তার কষ্ট প্রকাশিত হয়। মহিলাদের মধ্যে এই কষ্টের পরিমাণ এতটাই তীব্র হয় যে, তা প্রকাশ পায় হৃদরোগ হিসেবে। মন যদি চিন্তায় চাপে দুমড়ে-মুচড়ে যায়, তাহলে সেই দুঃখে হৃদয়ও খানখান হয়ে যায়। অর্থাৎ হার্টের উপর চাপ পড়ে। সাময়িকভাবে হলেও একটা ঝটকা লাগে শরীরে। দীর্ঘ সময় ধরেই যদি উদ্বেগের পাথর জমতে থাকে মনে, তাহলে তার চাপে একদিন হৃদয় সাড়া দেয়। অনেক সময় দেখা যায় প্রেম ভাঙলে, কাছের মানুষের মৃত্যু হলে বা বিবাহবিচ্ছেদের মতো কারণেও ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়েছেন রোগী। মনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন ঘটনাও ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোমের জন্য দায়ী।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ধীমান কাহালি TV9 বাংলাকে বলেছেন, “বয়সের পরও যারা অনেক বছর একসঙ্গে ছিলেন, তারপর হঠাৎ যখন স্বামী চলে গিয়েছে, বিধবা হয়ে গিয়েছেন। মনে ভীষণ দুঃখ, ডিপ্রেশন, অ্যানজাইটি, তার সঙ্গে টাকাপয়সার একটা সমস্যা। সব মিলে একে বলা হয় তাকসুবো সিন্ড্রোম।” এই ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোমে কী ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়, এই প্রসঙ্গে ধীমান বলেন, “হয়তো আর্টারিতে সেরকম কোনও ব্লকেজ নেই। কিন্তু তাদের বুকে একটা ব্যথা, বাকি হার্ট অ্যাটাকের যা উপসর্গ, সবই রয়েছে। একটা দিক বেলুনিং হয়ে গিয়েছে।” অর্থাৎ, তীব্র মানসিক বা শারীরিক চাপের কারণে হৃৎপিণ্ডের রক্ত পাম্প করার পদ্ধতিতে অস্থায়ী পরিবর্তন ঘটে। তখন হৃদপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে আরও কসরত করতে হয়।
ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোমের উপসর্গ হার্ট অ্যাটাকের মতোই। অর্থাৎ, বুকে চাপ লাগা, ব্যথা অনুভব করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে, ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়েছে, এমন ঘটনা সচারাচর দেখা যায় না। কিন্তু এই অবস্থায় যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এই রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে ধীমানবাবু বলেছেন, “মনের চিকিৎসা ঠিকমতো করা হয়। তার সঙ্গে হার্টের চিকিৎসাও ঠিকমতো করা হয়। তাহলে দেখা যায়, তারা আস্তে-আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠেন।” ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম সারে খুব তাড়াতাড়ি। ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগানো যায়। তার জন্য অভিজ্ঞ কারও কাছে কাউন্সেলিং করাতে হয়। তবে সবচেয়ে বড় থেরাপি হল নিজের খেয়াল নিজে থেকে রাখা। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত যোগ ব্যায়াম বা মেডিটেশন করা। যত বেশি মন খুলে কথা বলা যাবে, ততটাই ভাল।