
প্রচণ্ড গরমে গলা শুকিয়ে কাঠ। রাস্তায় ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় দেখতে পাচ্ছেন, ঠাণ্ডা আখের রস বিক্রি হচ্ছে। ব্যস, আরাম পেতে ঢক ঢক করে দু গ্লাস আখের রস খেয়ে নিলেন। শুধু কি তাই, এই গরমে গলা ভেজাতে অনেকেই প্রচুর পরিমাণে ফলের রস, ঠাণ্ডা পানীয়, কোল্ড ড্রিঙ্কস, চা, কফি খান। গরমকালে হাইড্রেটেড থাকার জন্য অনেকেই নিয়ম করে আখের রস, ফলের রস, ফলের শরবত, ঠাণ্ডা পানীয় খেয়ে থাকেন। প্রচণ্ড গরমে এই ঠাণ্ডা আখের রস অমৃতের চেয়ে কম কিছু নয়। শরীর ও মনকে ঠাণ্ডা রাখতে গিয়ে সর্বনাশ ডেকে আনছেন অজান্তেই, তা জানেন? সম্প্রতি, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) গরমের তাপদাহে আখের রসকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করেছে।
আইসিএমআরের দাবি, গরমের সময় যত্রতত্র আখের রস বিক্রি হয়। এছাড়া এই সময় আখের রস, ফলের রসের চাহিদাও থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে আজ থেকে এগুলি থেকে দূরেই থাকুন। যদি থেকেই হয়, তাহলে অল্প পরিমাণে খেতে পাারেন। প্রচুর পরিমাণে ফলের রস, আখের রস, কোল্ড ড্রিঙ্কস, চা ও কফি খাওয়া থেকে এড়িয় চলার পরামর্শ দিয়েছে আইসিএমআর। সবচেয়ে ভালো হয়, গোটা ফল খান, তাতে পুষ্টিগুণও পাবেন, আবার ফলের ফাইবার শরীরের জন্য উপকারী হবে। চা ও কফিও খান পর্যাপ্ত মাত্রায়। অতিরিক্ত খাওয়া হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
আখের রস অস্বাস্থ্যকর কেন?
আইসিএমআর জারি করেছে,আখের রসে প্রচুর পরিমাণে চিনি বা গ্লুকোজ রয়েছে। গবেষণা করে জানা গিয়েছে, ১০০ মিলি আখের রসে ১৩-১৫ গ্রাম চিনি থাকতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ৩০ গ্রামের বেশি চিনি ও ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য ২৪ গ্রামের বেশি চিনি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ।
আখের রসের কারা ও কেন খাবেন না
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আখের রস পান করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় চিনির পরিমাণ।
অতিরিক্ত চিনি খাওয়া হলে গ্লুকোজের ক্ষয় বাড়াতে পারে। কারণ চিনি বিপাক করার জন্য শরীরের আরও জলের প্রয়োজন হয়।
চিনিযুক্ত পানীয় শরীরে ক্যালরির পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে, তাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা যায়। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো রোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।