Former IAS IFS Officers Defend SIR: দেশবাসীকে খোলা চিঠি ১২৪ জন প্রাক্তন IAS, IFS আধিকারিকের, করলেন SIR নিয়ে সওয়াল

Former Officers Back Election Commission on SIR: চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, "সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলুন। কিন্তু কেউ যখন বলেন, ‘নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে’, তখন তাঁর কাছে এমন প্রমাণ চান, যা তিনি হলফনামা দিয়ে পেশ করতে প্রস্তুত। যে ব্যবস্থাকে আপনি কারচুপিপূর্ণ বলছেন, সেই একই ব্যবস্থা যদি আপনাকে নির্বাচনে জিতিয়ে থাকে, তাহলে নিজেকেই প্রশ্ন করুন—আপনি কি সত্যিই ব্যবস্থাটিকে সন্দেহ করছেন, নাকি শুধুমাত্র ফলাফলটি আপনার পছন্দ হয়নি?"

Former IAS IFS Officers Defend SIR: দেশবাসীকে খোলা চিঠি ১২৪ জন প্রাক্তন IAS, IFS আধিকারিকের, করলেন SIR নিয়ে সওয়াল
ফাইল ফোটো

Oct 10, 2026 | 6:21 PM

নয়াদিল্লি: ভারতের ১২৪ জন প্রাক্তন আইএএস (IAS) এবং আইএফএস (IFS) আধিকারিক দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন। ওই চিঠিতে তাঁরা জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পক্ষে সওয়াল করেছেন। ভোটার তালিকা যাচাই, অনিয়মের অভিযোগ এবং এই প্রক্রিয়া পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতেই তাঁদের এই উদ্যোগ।

প্রাক্তন আধিকারিকদের এই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন যখন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তখনই এই চিঠি সামনে এসেছে। সরাসরি নাগরিকদের উদ্দেশে চিঠি লিখে স্বাক্ষরকারীরা বিতর্কটিকে দলীয় রাজনীতির গণ্ডির বাইরে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ভূমিকা এবং নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকা বজায় রাখার গুরুত্বের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।

খোলা চিঠিতে কী লিখলেন প্রাক্তন IAS এবং IFS আধিকারিকরা?

ভারতের নাগরিকদের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, “প্রিয় সহনাগরিকরা, আমরা সারা জীবন ভারতের নির্বাচন পরিচালনা করেছি অথবা নির্বাচন নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছি। আমরা ভোটার তালিকা তৈরি করেছি, ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি, স্ট্রংরুম সিল করেছি এবং ভোট গণনার তদারকি করেছি। আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আজ আমরা লিখতে বাধ্য হচ্ছি, কারণ কোনও প্রমাণ ছাড়াই আমাদের নির্বাচনে ‘কারচুপি’ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রতিবার এই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থায় আঘাত হানে, যা আমাদের সকলের সম্পদ।”

নির্বাচনে কারচুপি কখন হয় সেকথা উল্লেখ করে তাঁরা চিঠিতে লিখেছেন, “আমরা জানি, কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে কেমন হয়। আপনারা যে সময়ের কথা সিনেমায় দেখেছেন, আমরা সেই সময়ে কাজ করেছি। ভোটকেন্দ্রে বন্দুকের ভয় দেখানো, বাহুবলীদের লোকজনের দাপট, ব্যালট বাক্সে জাল ভোট ভরে দেওয়া বা বাক্স লুট করা, ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া—এসব ছিল বাস্তব ঘটনা। বুথ দখল এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছিল যে, ১৯৮৯ সালে সংসদে আইন করে একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। যখন হিংসা কথা বলে, তখন গণতন্ত্রের কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায়।”

গত বছর বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের উল্লেখ করে খোলা চিঠিতে তাঁরা লেখেন, “আজ সেই বিহারেই, যে রাজ্য একসময় বুথ দখলের জন্য পরিচিত ছিল, ২০২৫ সালের নির্বাচন এমনভাবে সম্পন্ন হয়েছে যে, রাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবার একটিও কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি। ১৯৫১ সালের পর ভোটদানের হার ছিল সর্বোচ্চ। রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন মহিলারা। এটা এই কারণে ঘটেনি যে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা রাতারাতি সাধু হয়ে গিয়েছেন। বরং এর কারণ, নির্বাচন কমিশন (ECI) এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যেখানে কাউকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করা হয় না।”

খোলা চিঠিতে SIR-র পক্ষে সওয়াল-

এসআইআর-র পক্ষে সওয়াল করে তাঁরা লেখেন, “বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) হল ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয় এবং তালিকাকে আরও নির্ভুল করে তোলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অসুবিধা তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রকে আরও সুস্থ করে তোলার জন্য নেওয়া যে কোনও বড় উদ্যোগের ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।”

বিরোধীদের নিশানা করে চিঠিতে তাঁরা লেখেন, “কোনও প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে করা যায় না। এই একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। বিজয়ীরা তখন কোনও অভিযোগ তোলেননি। একটি ব্যবস্থা আপনি জিতলে সৎ আর হারলে কারচুপিপূর্ণ—এমন হতে পারে না। প্রশ্ন তোলা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। কিন্তু অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ার দায়িত্ব অভিযোগকারীর।”

চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, “সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলুন। কিন্তু কেউ যখন বলেন, ‘নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে’, তখন তাঁর কাছে এমন প্রমাণ চান, যা তিনি হলফনামা দিয়ে পেশ করতে প্রস্তুত। যে ব্যবস্থাকে আপনি কারচুপিপূর্ণ বলছেন, সেই একই ব্যবস্থা যদি আপনাকে নির্বাচনে জিতিয়ে থাকে, তাহলে নিজেকেই প্রশ্ন করুন—আপনি কি সত্যিই ব্যবস্থাটিকে সন্দেহ করছেন, নাকি শুধুমাত্র ফলাফলটি আপনার পছন্দ হয়নি?”

চিঠির শেষে তাঁরা লিখেছেন, “যাঁরা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই জোরালো রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করে নাগরিকদের উসকে দেন, তাঁরা গণতন্ত্রকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেন। যখন কোনও নাগরিকের ভোট গণনা করা হয়নি বা তাঁর ভোটের কোনও গুরুত্ব নেই—এমন অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ থাকে না, তখন এ ধরনের প্রচার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত হানে। এটি এমন এক রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা, যা নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাখ্যানের পর হারিয়ে গিয়েছে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us