
নয়া দিল্লি: তাঁদের সাংসদপদ কেন বাতিল করা হবে না? কেন দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পড়বেন না তাঁরা? এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্যায়, শতাব্দী রায়ের মতো সাংসদদের। সেই জবাব দিতে দফায় দফায় সময় চাইছেন তাঁরা। শেষবার স্পিকারের তরফে বলে দেওয়া হয়েছিল ৮ অক্টোবরই জবাব দেওয়ার শেষ দিন। তার মধ্যেই জানাতে হবে, কেন তাঁদের সাংসদপদ খারিজ করা হবে না। কিন্তু এবারও ‘ডেডলাইন’ মানতে পারলেন না তাঁরা।
সূত্রের খবর, ফের ২ সপ্তাহ সময় চাওয়া হবে। আজ, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সময় চেয়ে স্পিকারের অফিসে মেইল করা হবে সুদীপদের তরফে। সুপ্রিম কোর্ট এঅ সংক্রান্ত মামলায় এক মাস সময় দিয়েছে এনসিপিআই সাংসদদের। তার মধ্যে দিতে হবে জবাব। দু সপ্তাহ পর সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এই নিয়ে তিনবার সময় চাইলেন সুদীপরা। গত ২২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের অফিসের তরফে ৮ অক্টোবরের ডেডলাইন দেওয়া হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে স্পিকারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের এক মাস সময় দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্পিকারের কাছে সময় চাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সাংসদদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা হয়। আইনজীবীরা বলেছিলেন ৮ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নোটিসের জবাব দেওয়া সম্ভব। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে পারেননি আইনজীবীরা। ফলে, আবারও সময় চাইতে হচ্ছে ওই ২০ জন সাংসদকে।
তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হওয়া ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় তাঁদের প্রত্যেকের সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানিয়ে স্পিকার ওম বিড়লাকে ২০টি পৃথক চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ইস্যুতে মামলাও হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলায় শীর্ষ আদালত স্পিকারকে সময় বেঁধে না দিলেও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, গোটা বিষয়টিতে স্পিকারের পদক্ষেপ নজরদারিতে রাখবে কোর্ট।
এই প্রসঙ্গে মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, “দেশের নির্বাচিত সাংসদরা বলতে পারছেন না কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে! এত সময় নেওয়ার কী আছে?” অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির নেতা দেবজিৎ সরকারের দাবি, তাঁদের সঙ্গে ওই সাংসদদের কোনও যোগ নেই, পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের সঙ্গে কোনও জোটও নেই, ফলে তাঁরা কবে উত্তর দেবেন সেটা তাঁদের ব্যাপার।