
নয়া দিল্লি : মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী। কার্যত থমকে বাণিজ্য। আমদানি-রফতানিতে প্রভাব পড়ছে। ভারত চাল-সহ একাধিক শস্য রপ্তানিতে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে। কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে ভারত। এই আবহে জানা গেল,হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকায় জাহাজের লাইন পড়ে গিয়েছে। বহু জাহাজ আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই জাহাজ মন্ত্রকের আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।
জানা গিয়েছে,হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকায় ৩৮ টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রায় ১১০০ নাবিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। ইতিমধ্যেই মিসাইল হামলায় মৃত্যু হয়েছে জাহাজে কর্মরত তিনজন ভারতীয়র। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও এক ভারতীয়। এদিকে, পণ্যবাহী জাহাজের ভিড়ে উপচে-পড়ছে ভারতের বন্দর। জাহাজ মন্ত্রকের হিসেব বলছে, প্রায় হাজারের বেশি কনটেনার শিপ দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন বন্দরে। ইতিমধ্যেই জাহাজ মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন ডিজি শিপিং। পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী।
ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয়। এদিকে, ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ তেল এবং ৫০ শতাংশের বেশি এলএনজি এই পথ দিয়েই আমদানি করে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, প্রচুর ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। সেক্ষেত্রে ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি পণ্যের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে বিভিন্ন জাহাজে আটকে রয়েছেন ২৩ হাজার ভারতীয়। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ভারত সরকার।
ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের তরফে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে কন্ট্রোল রুম। টোল-ফ্রি নম্বরও দেওয়া হয়েছে। এই নম্বরগুলি হল ১৮০০১১৮৭৯৭, ৯১-১১-২৩০১২১১৩, ৯১-১১-২৩০১৪১০৪, ৯১-১১-২৩০১৭৯০৫। বাহরাইন, ইরান, ইরাক, ইজরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ বিভিন্ন দেশে ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগের নম্বরও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারতে কত তেল মজুত রয়েছে, তা মনিটর করার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খুলেছে নয়া দিল্লি।