
ভারতের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড মান্যবর (Manyavar) এবং মোহে (Mohey)। মান্যবর মূলত পুরুষদের শেরওয়ানি, কুর্তা ও ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকের জন্য বিখ্যাত আর মোহে হল লেহেঙ্গা, শাড়ি ও গাউনের জন্য জনপ্রিয়। এই ব্রান্ডটি অভিনেতা বিজয় দেবকোন্ডা ও রাশ্মিকা মন্দাকে নিয়ে নতুন একটি বিজ্ঞাপন শুরু করেছে। আর এই ক্যাম্পেইনটি তৈরি ও বাস্তবায়ন করেছে ‘প্রচার কমিউনিকেশন’ (Prachar Communications)
বিয়ের মরশুমকে সামনে রেখে তৈরি এই প্রচারাভিযানটি মূলত ‘মোমেন্ট মার্কেটিং’-এর কৌশলকে কাজে লাগিয়ে করা হয়েছে। বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশ্মিকা মন্দানার জনপ্রিয় জুটিকে এর কাজে লাগানো হচ্ছে। কারণ, দর্শকদের আগ্রহ যাতে আরও বাড়ে। মূলত, ভারতীয় বিয়ের আবহ ও আবেগকে তুলে ধরাই ছিল এই বিজ্ঞাপনের লক্ষ্য।
সংস্থার দাবি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই ক্যাম্পেইনটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়। প্রচার কমিউনিকেশন (Prachar Communications)-এর সঙ্গে মান্যবর দীর্ঘ এক দশক ধরে পথ চলছে। যার জেরে এই বিজ্ঞাপনটি প্রস্তুত করা আরও সহজ হয়েছে। মূলত ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হলেও পরবর্তীতে সিনেমা হল, প্রিন্ট ও আউটডোর বিজ্ঞাপনেও তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকাশের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই বিজ্ঞাপনটি অনলাইনে বিপুল সাড়া পেয়েছে। ইনস্টাগ্রামে বিজয় ও রাশ্মিকার যৌথ পোস্টটি মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ কোটিরও বেশি ভিউ পেয়েছে এবং ৮০ লক্ষের বেশি লাইক মিলেছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ক্যাম্পেইনটির ভিউ ইতিমধ্যে ৩০ কোটির বেশি এবং প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
এছাড়া ক্যাম্পেইনটিতে ৪ লক্ষের বেশি শেয়ার, প্রায় ৬৫ হাজার রিপোস্ট এবং ২৯ হাজারেরও বেশি মন্তব্য এসেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গড় এনগেজমেন্ট রেট প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ বলে জানা গেছে।
এই বিজ্ঞাপন সম্পর্কে রাশ্মিকা বলেন, “বিয়ের আবেগ ও গল্পকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরে মান্যবর ও মোহে। সেই কারণেই এই কাজটি আমার কাছে বিশেষ। পোশাকগুলো যেমন স্টাইলিশ, তেমনি এর কারুকার্যও অসাধারণ।” অন্যদিকে, বিজয় দেবরেকোন্ডা বলেন, “এই ক্যাম্পেইনের ধারনাটি আমার কাছে নতুনত্ব লেগেছে। সম্পর্কের বাস্তব আবেগ, সঙ্গীত এবং পোশাক—সবকিছু মিলিয়ে এটি আধুনিক হলেও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।”
আর Manyavar-এর চিফ রেভিনিউ অফিসার ভেদান্ত মোদী বলেন, “Prachar-এর সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই আমরা নতুন ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারি। আধুনিক বিয়ের আনন্দ, আবেগ ও উচ্ছ্বাসকে বিজয় ও রাশ্মিকার মাধ্যমে তুলে ধরাই ছিল এই ক্যাম্পেনের লক্ষ্য।”
অন্যদিকে, প্রচার কমিউনিকেশনের ডিরেক্টর রক্ষিত জৈন বলেন, “মাত্র তিন দিনের মধ্যে এত বড় ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা ছিল এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে সঠিক সমন্বয়, শক্তিশালী পরিকল্পনা এবং তারকা উপস্থিতির কারণে এটি অল্প সময়েই দর্শকদের কাছে বড় সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে।”
সংস্থার ডিরেক্টর বেদাঙ্গ জৈন এর মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার ভিড়ে আলাদা করে নজর কাড়ার জন্য এই ধরনের সৃজনশীল প্রচারাভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজয় ও রাশ্মিকাকে একসঙ্গে এনে দর্শকদের কৌতূহলকে একটি সাংস্কৃতিক মুহূর্তে রূপ দেওয়াই ছিল এই প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য।