
পটনা: রাজ্যে কি আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই? কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে ঘৃণ্য মানসিকতা? বিহারে নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনায় এই প্রশ্ন বারবার উঠছে। যখন জামুইয়ে এক কিশোরীকে ‘নীতি পুলিশি’র নামে যৌন নিগ্রহ করার ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছি ছি পড়ে গিয়েছে, সেই সময়ই আরও দুই নাবালিকাকে হেনস্থার খবর সামনে এল। বিহারের জামুইয়ের ঘটনার পর সমস্তিপুরেও যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছে এক নাবালিকা। এবার বিহারের বাঙ্কাতেও এক কিশোরীকে নিগ্রহের ভিডিয়ো সামনে এল।
শুক্রবার এই ভিডিয়ো সামনে আসে। মন্দর পর্বত নামক একটি পর্যটন কেন্দ্রে এক নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কয়েকজন ছেলে ওই কিশোরীকে হেনস্থা করছে।
ওই ভিডিয়ো শেয়ার করে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব লেখেন, “বিহারে আইন-শৃঙ্খলা মৃত্যুশয্যায়। বাঙ্কার এই রাক্ষসরা কবে ধরা পড়বে? জামুই ও সমস্তিপুরের পর ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র বাঙ্কাও ভাইরাল হয়ে গেল!”। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে জামুইয়ের ঘটনায় বাকি পাঁচ অভিযুক্তের কী হল? সমস্তিপুরের চার অভিযুক্তরা অর্ধেক শাস্তি পেল নাকি সম্পূর্ণ? নাকি তাদের কোনও সমীকরণে ছেড়ে দেওয়া হল?
তেজস্বী অভিযোগ করেন যে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী অভিযুক্ত ব্যক্তির জাত-ধর্ম দেখে বিচার ও শাস্তি দেন।
সোমবার দাঁড়ভাঙায় এক কিশোরীর ওড়না টেনে তাঁকে হেনস্থা করে বাইকে চেপে আসা দুই ব্যক্তি। কিশোরী চিৎকার করলে, অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এরপরে পুলিশ জানায় যে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পকসো আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর অভিযুক্ত নাবালক হওয়ায়, তাঁকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিহারের জামুইতে কিশোর-কিশোরীকে রাস্তায় একদল ব্যক্তি আটকায় এবং ওই কিশোরীকে যৌন হেনস্থা করে। বিহার পুলিশ জানায় মঙ্গলবার দুই অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুইজনের পায়ে গুলি লেগেছে। এখনও পর্যন্ত তিন নাবালক সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এরপর গতকাল বিহারের সমস্তিপুরের একটি ভিডিয়োও ভাইরাল হয়। সেখানেও নীতি পুলিশির নামে এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করা হয়। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।