
অমরাবতী: স্কুলে তখন ক্লাস চলছিল। ক্লাসরুমে শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন। আচমকাই সেখানে ঢুকে দশম শ্রেণির দুই ছাত্রীর উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ২১ বছরের যুবকের বিরুদ্ধে। অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার রাপ্তাডু গ্রামের এক স্কুলে এই ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে দুই ছাত্রী। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
যুবকের নাম হেমন্ত ওরফে দুম্মু। তার বাড়ি শ্রী সত্য সাই জেলার ধর্মবরম মণ্ডলের নাগালুরে। অভিযুক্ত আহত এক ছাত্রীর দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলেও জানা যাচ্ছে। অভিযোগ, হাতে চেন শ বা করাতের মেশিন নিয়ে ক্লাসরুমে ঢুকে দুই ছাত্রীর উপর হামলা চালায়। এরপর স্কুল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। পরে ধর্মবরম রেলস্টেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
হামলায় আহত দুই ছাত্রীকে দ্রুত অনন্তপুরের সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। আহতদের মধ্যে এক ছাত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে খবর। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্কুলের মধ্যে এই হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। কী কারণে অভিযুক্ত ওই দুই ছাত্রীর উপর হামলা চালাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানারও চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন,”রাপ্তাডুর স্কুলের ক্লাসরুমের মধ্যে দশম শ্রেণির ছাত্রীর উপর এই নৃশংস হামলার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। স্কুলের মতো নিরাপদ জায়গায় যারা কিশোরীদের উপর হামলা চালায়, সমাজে তাদের কোনও জায়গা নেই।”
আহত ছাত্রীর চিকিৎসার উপর তিনি নিজে নজর রাখছেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে দ্রুত কঠোর আইনি শাস্তি দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।