
নয়া দিল্লি: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমির অনুমোদনের সিদ্ধান্তের পরেই চাঞ্চল্য বাংলাদেশে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-কে হাই এলার্টে রাখা হয়েছে।
সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া নিশ্চিত করার প্রেক্ষিতে নতুন করে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক বা ভারতে অনুপ্রবেশকারীদের ফের বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তারিক রহমানের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর ঢাকায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার আশা করে ‘পুশব্যাক’ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনী প্রচারে যা বলেছেন সরকার পরিচালনায় সেই কড়া পদক্ষেপ বজায় রাখবে না, পশ্চিমবঙ্গের সরকার। । ঢাকা মনে করছে, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হলে অনুপ্রবেশকারীদের নতুন করে ‘পুশব্যাক’ করার বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার হতে পারে। সেই সম্ভাবনা রুখতেই বিজিবি-কে সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মার বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর ঢাকায় জানিয়েছেন, তাঁরা ভারতের এই প্রশাসনিক গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে প্রথম থেকে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। বাংলায় যে একজনও বাংলাদেশিকে বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই এই বিষয়টির ওপর জোর দেন।
সীমান্তে কাঁটা তার বসাতে জমি ইস্যুতে আগের সরকার যে আপত্তি তুলেছিল, তাতে উন্মুক্ত পড়ে ছিল ভারত বাংলাদেশের একাধিক সীমান্ত এলাকা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই জানিয়ে দেয়, BSFকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই তা হয়ে যাবে। তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বাংলাদেশ।