
নয়া দিল্লি: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) সঙ্গে সাক্ষাতের পর ‘ভোট চুরি’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এবার লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যে টেনে আনার চেষ্টা করছেন রাহুল। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক নিয়ে রাহুল বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন বলেও দাবি বিজেপি নেতার।
শুক্রবার সন্ধে ৮টা নাগাদ রাষ্ট্রপতি ভবনে দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে ইন্ডিয়া জোটের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। সেই দলে নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ-সহ চার দফা দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা। বৈঠকের পরই রাহুল দাবি করেন, ভোট চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেননি রাষ্ট্রপতি। বরং অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন তিনি। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন সম্বিত পাত্র। তিনি বলেন, “একজন অযোগ্য নেতা রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিক রাস্তার লড়াইয়ে টেনে আনার চেষ্টা করেছেন। রাহুল গান্ধী ন্যূনতম প্রোটোকলও বোঝেন না। রাষ্ট্রপতি স্মারকলিপি গ্রহণ করেন, এটাই নিয়ম। কিন্তু তিনি গোটা বিষয়টিকে নাটকে পরিণত করেছেন।”
বিজেপির মুখপাত্রের প্রশ্ন, প্রায় এক বছর ধরে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা। তাহলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় সেই অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ জমা দেওয়া হল না কেন? সম্বিত পাত্র বলেন, “আপনারা যদি পরে প্রমাণ জমা দেবেন, তাহলে প্রথমেই প্রমাণ ছাড়া রাষ্ট্রপতির কাছে গেলেন কেন?”
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর রাহুল গান্ধীর বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সম্বিত পাত্র। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়াকে ভুলভাবে তুলে ধরেছেন কংগ্রেস নেতা। সম্বিত বলেন, “বৈঠক থেকে বেরিয়ে ওই অযোগ্য নেতা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নাকি তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছেন।” রাহুল গান্ধী দেশের কোনও উচ্চপদে থাকার মতো দায়িত্বশীল নন বলেও মন্তব্য করেন বিজেপির মুখপাত্র।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি লেখেন, “রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অবিশ্বাস্য একটি বৈঠক করে এলাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কীভাবে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, তা তুলে ধরে আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছি। কিন্তু ভোট চুরির অভিযোগ রাষ্ট্রপতি অস্বীকার করেননি দেখে আমি বিস্মিত।”
রাহুলের দাবি, রাষ্ট্রপতি ভোটে অনিয়মের অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন, নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ দেশের মানুষের সামনে রয়েছে। একের পর এক রাজ্যে নির্বাচন ‘চুরি’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা।
তবে, রাহুলের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিজেপি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সম্বিত পাত্র। ভোট চুরির অভিযোগের প্রমাণ নিয়েও বিরোধীদের পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।