Bharatiya Mazdoor Sangh: সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের দাবি ভারতীয় মজদুর সংঘের
BMS nationwide protest on August 17: ভারতীয় মজদুর সংঘের দিল্লি শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপেন্দ্র চাহার বলেন, এই আন্দোলন শুধুমাত্র দাবিদাওয়ার তালিকা নয়। এটি শ্রমিকের মর্যাদা, সামাজিক সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং শ্রমিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন।

নয়াদিল্লি: ভারতীয় মজদুর সংঘের (BMS) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (কেন্দ্রীয় কার্য সমিতি বা KKS) আগামী ১৭ অগস্ট দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শ্রমিক, কর্মচারী, পেনশনভোগী, স্কিম কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক অসংগঠিত শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৭ অগস্ট সকাল ১১টায় নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ধরনা ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করবে BMS। বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমিক, ফেডারেশন এবং BMS-এর সঙ্গে যুক্ত ইউনিয়নের কর্মীরা বিপুল সংখ্যায় এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে রাঁচিতে KKS-এর বৈঠকে BMS-এর ২৮টি রাজ্য ইউনিট এবং ৪২টি শিল্পভিত্তিক ফেডারেশনকে জেলা সদরগুলিতে বিক্ষোভ, মিছিল ও ধরনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
BMS-এর প্রধান দাবিগুলি-
- EPS-95-র আওতায় ন্যূনতম পেনশন মাসে ৭,৫০০ টাকা করা এবং এর সঙ্গে পরিবর্তনশীল মহার্ঘ ভাতা (VDA) ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা যুক্ত করা।
- ESI-র মজুরি সীমা ২১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪২ হাজার টাকা করা।
- EPF-র মজুরি সীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা।
- নতুন শ্রমবিধি অনুযায়ী পুরো মজুরির ভিত্তিতে বোনাস চালু করা এবং বোনাস ক্যালকুলেশনের ৭ হাজার টাকার সীমা বাড়ানো।
- গ্র্যাচুইটির পরিমাণ ১৫ দিনের মজুরি থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিনের মজুরি করা এবং কোনও ঊর্ধ্বসীমা না রাখা।
- বৈজ্ঞানিক ও মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি চালু করা।
- অঙ্গনওয়াড়ি, আশা, মিড-ডে মিল, NHM-সহ বিভিন্ন স্কিম কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধি করা।
- চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য সমকাজে সমবেতন নিশ্চিত করা।
- মজুরি আত্মসাতের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার ও ম্যানপাওয়ার এজেন্সিগুলির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
- ব্যাঙ্কে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা।
- সরকারি পরিষেবা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে সমস্ত শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা।
- অবিলম্বে ইন্ডিয়ান লেবার কনফারেন্স ডাকা এবং পুরনো পেনশন ব্যবস্থা (OPS) পুনরায় চালু করা।
শ্রমবিধির বিরোধিতা-
ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড (IR Code) এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস কোডের বেশ কিছু বিধানের বিরোধিতা ফের স্পষ্ট করেছে BMS। সংগঠনের দাবি, এই বিধানগুলি শ্রমিকদের অধিকার, চাকরির নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে দুর্বল করছে।
BMS-এর দাবি, কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে সরকারকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে হবে এবং শ্রমিকদের স্বার্থে শ্রমবিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।
‘স্কিম কর্মী’ ধারণা পুনর্বিবেচনার দাবি-
BMS কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির কাছে ‘স্কিম কর্মী’ ধারণাটিও পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, ১৯৭৫ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্প প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলছে। এই কর্মীরা অনেক সময় প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় কাজ করলেও তাঁদের নিয়মিত কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। ফলে তাঁরা শ্রম আইন ও সামাজিক সুরক্ষার কার্যকর সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হন।
BMS-র দাবি, দেশের এক কোটিরও বেশি স্কিম কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে হবে এবং ভারতের বাস্তব পরিস্থিতি ও পরিবর্তিত কর্মসংস্থানের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন জাতীয় নীতি তৈরি করতে হবে।
বিক্ষোভে ব্যাপক অংশগ্রহণের আবেদন-
১৭ অগস্টের দেশব্যাপী বিক্ষোভে শ্রমিক, কর্মচারী, পেনশনভোগী, ব্যাঙ্ক কর্মী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী, স্কিম কর্মী এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের বিপুল সংখ্যায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে BMS।
ভারতীয় মজদুর সংঘের দিল্লি শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপেন্দ্র চাহার বলেন, এই আন্দোলন শুধুমাত্র দাবিদাওয়ার তালিকা নয়। এটি শ্রমিকের মর্যাদা, সামাজিক সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং শ্রমিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন।
