
নয়া দিল্লি : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে আবহে দিল্লিতে চলছে ব্রিকস সম্মেলন (BRICS)। দু’দিনের ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আজ থেকে শুরু হয়েছে ‘ব্রিক্স’-এর বিদেশমন্ত্রীদের (Foreign Ministers) বৈঠক। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আজ ভারতে এসেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর বিষয়ে কোনও সমাধান সূত্র মেলে কি না সেদিকেই নজর ছিল গোটা বিশ্বের। বিশেষ করে ভারত কোনও বার্তা দেয় কি না, সেদিকেও নজর ছিল। জানা গিয়েছে, আজকের ব্রিকস সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বার্তা দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। একইসঙ্গে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন এস জয়শঙ্কর। হরমুজ় প্রণালী এবং লোহিত সাগরের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে বাধা এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হুমকি বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই সময়ে সমুদ্রে নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জয়শঙ্কর একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তবে, প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষ বার্তা দিয়েছেন। ব্রিকসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনকে পাশ কাটিয়ে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। এটা কি আমেরিকাকেই ঘুরিয়েই বার্তা দিতে চাইলেন জয়শঙ্কর?
ব্রিকসে গাজ়ার বিষয়টিও উত্থাপন করে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ভারত যুদ্ধবিরতির পক্ষে। লেবানন, সিরিয়া, সুদান, ইয়েমেন এবং লিবিয়ার উল্লেখ করে ভারত এই বার্তা দিতে চেয়েছে, আঞ্চলিক অস্থিরতা এখন আর কোনও ভৌগোলিক বিষয় নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা উভয়কেই প্রভাবিত করছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। সন্ত্রাসবাদের প্রতি জ়িরো টলারেন্স নীতিতে জোর দিয়েছেন এস জয়শঙ্কর।