
নয়া দিল্লি: পাড়ার চায়ের দোকানে আলোচনা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের আক্রমণ- সব জায়গাতেই এখন চর্চা জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে। এসআইআরের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ ও দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি নিয়ে তদন্তমূলক রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার পরই হইচই পড়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে রাহুল গান্ধী- সকলেই জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি করেছেন।
দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ১৯৮৮ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের আইএএস (IAS) অফিসার তিনি। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার আগে তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসাবেও কাজ করেছেন। জ্ঞানেশ কুমারের শিক্ষাগত যোগ্য়তা কী জানেন?
উত্তর প্রদেশের আগ্রায় জন্ম জ্ঞানেশ কুমারের। আগ্রাতেই তাঁর স্কুল শিক্ষা। এরপরে তিনি জেইই মেইন ও অ্যাডভান্স পরীক্ষায় সফল হন। আইআইটি কানপুর থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক করেন। স্নাতক পাশ করার পর ICFAI থেকে বিজনেস ফিন্যান্স এবং আমেরিকায় হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় (Harvard University) ও পরিবেশগত অর্থনীতি (Environmental Economics) নিয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ১৯৮৮ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের IAS আধিকারিক হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের প্রশাসনিক জীবন শুরু হয়। কেরল সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি কাজ করেছেন। তিনি অ্যাডর (Adoor)-এর সাব কালেক্টর (Sub Collector), কেরল স্টেট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (Kerala State Development Corporation for SC/ST)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর, কোচি কর্পোরেশন (Corporation of Cochin)-এর মিউনিসিপাল কমিশনার এবং কেরল স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক (Kerala State Cooperative Bank)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন।
এর পাশাপাশি এরনাকুলামের জেলা কালেক্টর, ত্রিবান্দম এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট সোশ্যাইটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং নয়া দিল্লিতে কেরল হাউসের রেসিডেন্ট কমিশনার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (Ministry of Defence)-এর যুগ্ম সচিব এবং স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs)-এর যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। পরে তিনি সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রকের সেক্রেটারি এবং কোঅপারেশন মন্ত্রকের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসর নেওয়ার সময় তিনি কোঅপারেশন মন্ত্রকের (Cooperation Ministry)-এর সেক্রেটারি পদে ছিলেন।
এরপর ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ তাঁকে নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ করা হয়।এক বছর পর, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসাবে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে ভোটার তালিকায় নিবিড পরিমার্জন (Special Intensive Revision) বা SIR-কে কেন্দ্র করে। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলি একাধিক অভিযোগ তুলেছে। সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তদন্তমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশি গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিকবার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনও প্রতিষ্ঠানে আলোচনা চলাকালীন সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।