
নয়া দিল্লি: মাসের ৩০ তারিখ নয়, আজই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বেতন। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা আজ, ২৫ সেপ্টেম্বরই বেতন পেয়ে যাবেন। এই ঘোষণা করেছে অর্থ মন্ত্রক। কেন আগেভাগে বেতন দেওয়া হচ্ছে?
উৎসবের মরশুম বা অন্য কোনও কারণ নয়, ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। একটানা তিন দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন (United Forum of Bank Unions)। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য সেপ্টেম্বর মাসের বেতন আগেই দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক।
অর্থ মন্ত্রকের অধীন কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টস (Controller General of Accounts) একটি অফিস মেমোরেন্ডাম জারি করে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন, মজুরি এবং পেনশন ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার-এর মধ্যেই দেওয়া হবে।
মেমোরেন্ডামে বলা হয়েছে, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সেপ্টেম্বরের বেতন, মজুরি ও পেনশন ২৫ সেপ্টেম্বরেই দেওয়া হবে। এই নির্দেশের আওতায় শুধু সাধারণ কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর নয়, প্রতিরক্ষা, ডাক এবং টেলিযোগাযোগ দফতরও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্পক্ষেত্রে কর্মরত কর্মীদের সেপ্টেম্বর মাসের মজুরিও ২৫ সেপ্টেম্বর আগাম দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের সেপ্টেম্বরের পেনশন ২৫ সেপ্টেম্বরেই ব্যাঙ্ক বা সংশ্লিষ্ট পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস (Pay & Accounts Office)-এর মাধ্যমে দেওয়া হবে।
তবে এই বেতন, মজুরি বা পেনশনকে আগাম অর্থপ্রদান হিসাবে ধরা হবে। মাসের পুরো বেতন বা পেনশনের হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার পর যদি কোনও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, তা করা হবে। অর্থ মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সমন্বয় থাকলে তা অক্টোবরের বেতন বা মজুরি থেকে করা হবে।
২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের পাশাপাশি সেপ্টেম্বর মাসের শেষেই চলতি ত্রৈমাসিকের হিসাব ক্লোজার হওয়ার সময় পড়ছে। ফলে ওই সময় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হলে বেতন, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনে সমস্যা হতে পারে। এই কারণে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে যেসব পেমেন্ট এবং ব্যাঙ্কিং লেনদেন করার কথা রয়েছে, সেগুলিও সম্ভব হলে আগেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রক সমস্ত মন্ত্রক ও দফতরকে দ্রুত এই নির্দেশ তাদের অধীনস্থ অফিসগুলিতে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। পাশাপাশি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)-কেও ব্যাঙ্কের সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট শাখাগুলিতে এই নির্দেশ জানাতে বলা হয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে গ্রাহকদের যাতে বেশি সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য রবিবারও সমস্ত ব্যাঙ্ক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক।
একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের সতর্ক করতে শুরু করেছে। ধর্মঘট হলে ব্যাঙ্কে গিয়ে পরিষেবা নেওয়ার পরিবর্তে মোবাইল ব্যাঙ্কিং, এটিএম (ATM), ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং ইউপিআই (UPI)-এর মতো ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।