
নয়াদিল্লি : লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকে মুক্তি দিচ্ছে কেন্দ্র। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে তাঁকে আটকের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হচ্ছে। শনিবার একটি বিবৃতি জারি করে এমনই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত বছর সেপ্টেম্বরে লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা-সহ একাধিক ইস্যুতে বিক্ষোভ চরম আকার নেয়। লাদাখের ওই গণবিক্ষোভে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে। তারপরই কেন্দ্র তাঁকে আটক করেছিল। দীর্ঘ ছয় মাস তাঁকে যোধপুর জেলে আটক করে রাখা হয়েছিল। এবার তাঁকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রের বিবৃতি
শনিবার একটি বিবৃতিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, সরকার লাদাখে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লাদাখে সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক এবং অর্থপূর্ণ আলোচনা সহজতর করাই সরকারের উদ্দেশ্য । আর সেই কথা মাথায় রেখে যথাযথ বিবেচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সোনম ওয়াংচুককে আটক করে রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে। একইসঙ্গে লাদাখের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার ।
কেন্দ্রীয় সরকার আরও জানিয়েছে, লাদাখের জনগণকে সাহায্যের জন্য, সেখানকার মানুষের প্রয়োজনে সব পক্ষ এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কেন্দ্র এই বিষয়ে বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিক্ষোভ, বনধ শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা…সব ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। লাদাখের জন্য, লাদাখের মানুষের জন্য যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রদানে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আশা করা যাচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে লাদাখে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সমস্যাগুলোর সমাধান করা যাবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর।
লাদাখে গণবিক্ষোভ ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা
গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকে আটক করা হয়েছিল। তার ঠিক দুইদিন আগেই লাদাখের গণবিক্ষোভে ৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন প্রায় ৫০ জন। তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মীরাও ছিলেন। জেলাশাসকের নির্দেশে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে তাঁকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁকে আটক করা হয়। তারপর তাঁকে যোধপুর জেলে পাঠানো হয়। এদিকে, সোনম ওয়াংচুককে আটকের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় তাঁর স্ত্রী। শুনানির সময় শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যে বক্তৃতার ভিত্তিতে ওয়াংচুককে আটক করা হয়েছে, সেই বক্তৃতার ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। এই নিয়ে কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত।