
নয়া দিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় চেয়েছিল ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের প্রতিনিধিদল। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, প্রধান বিচারপতি এই সাক্ষাতের অনুমতি দেননি। সোমবার দিল্লিতে এক বিশাল মহামিছিলের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোটের শরিক দলগুলি। রাত ১১টার কিছু আগে এই খবর প্রকাশ্যে আসে।
সূত্রের খবর, বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার কারণ ব্যাখ্যা করে একটি বিস্তারিত চিঠি বা ইমেল বিরোধী নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তাঁর প্রতিনিধিদল যে বিষয়গুলি তুলেছেন, তা প্রশাসনিক স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেয়ে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করা বেশি সঙ্গত।
কেন বিরোধী দলের নেতাদের দেখা করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেন প্রধান বিচারপতি?
প্রথমত, CJI জানান, নেতারা যে বিষয়গুলি উত্থাপন করতে চাইছেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করার সুপ্রিম কোর্টের কোনও প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই।
তৃতীয়ত, নেতারা যেহেতু একটি স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন, তাই প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক দিক থেকে এই ধরনের বিষয়ে কোনও নির্দেশ জারি করা সম্ভব নয়।
তবে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, নেতারা চাইলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারবিভাগীয় এক্তিয়ারে এই বিষয়গুলি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট অন্য মামলার সঙ্গে এ বিষয়ে শুনানি করবে।
এর আগে একই দাবি নিয়ে গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল বিরোধী জোটের একটি প্রতিনিধিদল। সেই দিনই ঘোষণা করা হয়েছিল যে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ঠিক ছিল ইন্ডিয়া জোটের সাংসদ ও নেতারা সুপ্রিম কোর্ট অভিযান করবেন। কিন্তু পরবর্তীকালে ডাক দেওয়া হয়, সোমবারের এই কর্মসূচিতে সিভিল সোসাইটি, ককরোচরা, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, ছাত্রছাত্রীরা যোগ দিতে পারবেন। এই বিক্ষোভে সমাজের সব স্তরের মানুষ অংশ নেওয়ার আহ্বান দেওয়া হয়েছিল। তাতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল CJP-দেরও। এরপর রাহুলদের পরবর্তী কর্মসূচি কী হয়, সেটাই দেখার।