
নয়া দিল্লি : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ করতেই হবে। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে জোরালো দাবি তুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। আজ মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে মোট ৫টি দাবি তথা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ থেকে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি রয়েছে। একইসঙ্গে, দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই বৈঠকে ।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। খাড়্গের দাবি, যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতেই এই দাবিগুলি তোলা হয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টের প্রসঙ্গ তুলে খাড়্গে দাবি করেন, দুই নির্বাচন কমিশনারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁর কথায়, “দুই নির্বাচন কমিশনার নিজেরাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদক্ষেপকে খামখেয়ালি ও অনুপযুক্ত বলে বর্ণনা করেছেন।” উল্লেখ্য, দিন দুয়েক আগেই তিন কমিশনারের বৈঠক ও একটা বিবৃতি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে যে, সর্বসম্মতিতেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন খাড়্গে। দুই নির্বাচন কমিশনারকে কেন একটি অভ্যন্তরীণ পোর্টাল থেকে বাদ রাখা হয়েছিল এবং তাঁদের অংশগ্রহণ ছাড়াই কোনও গোপনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তবে কংগ্রেসের এই প্রচার নির্বাচন কমিশনকে দুর্বল করার জন্য নয় বলেও দাবি করেছেন খাড়্গে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানটির উপর শাসক বিজেপি এবং বিরোধী, উভয় পক্ষেরই যাতে আস্থা থাকে, সেটাই তাঁদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই কোনও দল, সংগঠন বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। ভারতীয় ভোটারদের অধিকার, সংবিধান এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করাই আমাদের লক্ষ্য।”
ভোটার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে রাহুল গান্ধীর আগের অভিযোগগুলিকেও সমর্থন করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। খাড়্গের বক্তব্য, বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরা, কর্নাটকের আলন্দ, হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রের ভোটারদের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে কংগ্রেসের প্রচার চলবে বলেও জানিয়েছেন খাড়্গে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন ও সরকার বদলাতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্র ও সংবিধানকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, দেশের ভোটারদের এই বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন যে তাঁদের ভোট সুরক্ষিত।