Congress Meeting: ‘জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে’, জোরালো দাবি রাহুলের, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আর কী কী সিদ্ধান্ত?

Congress on Gyanesh Kumar: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। খাড়্গের দাবি, যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতেই এই দাবিগুলি তোলা হয়েছে।

Congress Meeting: জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে, জোরালো দাবি রাহুলের, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আর কী কী সিদ্ধান্ত?
মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও রাহুল গান্ধীImage Credit source: PTI

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Sep 29, 2026 | 3:41 PM

নয়া দিল্লি : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ করতেই হবে। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে জোরালো দাবি তুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। আজ মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে মোট ৫টি দাবি তথা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ থেকে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি রয়েছে। একইসঙ্গে, দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই বৈঠকে ।

পাঁচ দফা দাবি 

  • অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। সব জায়গায় এই দাবি তুলবে কংগ্রেস।
  • ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে।
  • ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার ফেরাতে হবে।
  • প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অঙ্গুলি হেলনে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ভোট চুরি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে দেশের গণতন্ত্র এবং সংবিধান রক্ষা করা সম্ভব নয়।
  • যতক্ষণ না সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত হচ্ছে, স্বাধীন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ কংগ্রেস সংসদে, আদালতে এবং রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা খাড়্গের

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। খাড়্গের দাবি, যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতেই এই দাবিগুলি তোলা হয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টের প্রসঙ্গ তুলে খাড়্গে দাবি করেন, দুই নির্বাচন কমিশনারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁর কথায়, “দুই নির্বাচন কমিশনার নিজেরাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদক্ষেপকে খামখেয়ালি ও অনুপযুক্ত বলে বর্ণনা করেছেন।” উল্লেখ্য, দিন দুয়েক আগেই তিন কমিশনারের বৈঠক ও একটা বিবৃতি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে যে, সর্বসম্মতিতেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়েও প্রশ্ন

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন খাড়্গে। দুই নির্বাচন কমিশনারকে কেন একটি অভ্যন্তরীণ পোর্টাল থেকে বাদ রাখা হয়েছিল এবং তাঁদের অংশগ্রহণ ছাড়াই কোনও গোপনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তবে কংগ্রেসের এই প্রচার নির্বাচন কমিশনকে দুর্বল করার জন্য নয় বলেও দাবি করেছেন খাড়্গে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানটির উপর শাসক বিজেপি এবং বিরোধী, উভয় পক্ষেরই যাতে আস্থা থাকে, সেটাই তাঁদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই কোনও দল, সংগঠন বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। ভারতীয় ভোটারদের অধিকার, সংবিধান এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করাই আমাদের লক্ষ্য।”

রাহুলের অভিযোগের পাশেও খাড়্গে

ভোটার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে রাহুল গান্ধীর আগের অভিযোগগুলিকেও সমর্থন করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। খাড়্গের বক্তব্য, বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরা, কর্নাটকের আলন্দ, হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রের ভোটারদের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে কংগ্রেসের প্রচার চলবে বলেও জানিয়েছেন খাড়্গে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন ও সরকার বদলাতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্র ও সংবিধানকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, দেশের ভোটারদের এই বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন যে তাঁদের ভোট সুরক্ষিত।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us