Keralam Government Formation: চূড়ান্ত হল না মুখ্যমন্ত্রীর নাম, বাড়ছে বিক্ষোভ! তামিলনাড়ুর পর এবার কেরলমে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা?

Keralam Congress CM Crisis: কেরলমের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তিনজন। ভি ডি সতীশন, কে সি বেণুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিথালা। এই তিন নেতার অনুগামী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একটা বিবাদ তৈরি হয়েছে। চলছে বিক্ষোভ। চলছে স্লোগান-যুদ্ধ। বড় বড় মিছিল হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে গিয়েছে একাধিক পোস্ট। নিজেদের পছন্দের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

Keralam Government Formation: চূড়ান্ত হল না মুখ্যমন্ত্রীর নাম, বাড়ছে বিক্ষোভ! তামিলনাড়ুর পর এবার কেরলমে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা?
কেরলমের মুখ্যমন্ত্রী কে?Image Credit source: Meta AI

May 10, 2026 | 10:39 AM

তিরুঅনন্তপুরম : তামিলনাড়ুর সরকার (Tamil Nadu Government) গঠনের জট তো কাটল। কিন্তু কেরলমে (Keralam Government) এখনও জিইয়ে জটিলতা। দক্ষিণের এই রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক মিলে গেলেও সরকার গঠন সম্ভব হচ্ছে না। জটিলতা একটা জায়গায়। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ এখনও চূড়ান্ত করে উঠতে পারছে না কংগ্রেস (Congress) নেতৃত্ব। ইউডিএফ (UDF) জোটের শরিক দলগুলোর মতামতও মাথায় রাখতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। গতকালও বৈঠক হয়েছে। কিন্তু, সমাধান সূত্র মেলেনি। মুখ্যমন্ত্রীর তিন দাবিদারকে নিয়ে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মধ্যেই বিবাদ শুরু হয়েছে।

কেরলমের মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার কারা?

কেরলমের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তিনজন। ভি ডি সতীশন, কে সি বেণুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিথালা। এই তিন নেতার অনুগামী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একটা বিবাদ তৈরি হয়েছে। চলছে বিক্ষোভ। চলছে স্লোগান-যুদ্ধ। বড় বড় মিছিল হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে গিয়েছে একাধিক পোস্ট। নিজেদের পছন্দের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ প্রদর্শন

সতীশনের সমর্থকরা কোঝিকোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে বলে দাবি তুলে মিছিল করছেন তাঁরা। সমর্থকদের কাছে সতীশন আসলে কিংমেকার এবং বাহুবলী। এই দু’টো নামেই তাঁকে অভিহিত করছেন সমর্থকরা। এদিকে, তিরুঅনন্তপুরমে কেসি বেণুগোপালের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে তার জায়গায় সতীশনের ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যেই সতীশনের চার পদাধিকারী অনুগামীকে অপসারণ করে কংগ্রেস এই ধরনের বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এই লড়াই শুধু কোনও পোস্টারেই সীমাবদ্ধ নয়। সতীশনের বেশ কয়েকজন সমর্থক দলীয় নেতৃত্বকে বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য অনুরোধ করেছেন। আবার কেউ দাবি করেছেন সতীশনের চেয়ে বেণুগোপালের সমর্থন বেশি। তাই বেণুগোপালকেই যেন কেরলমের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। আবার কেউ কেউ চেন্নিথালাকে ‘জনগণের মুখ্যমন্ত্রী’ বলে অভিহিত করেছেন।

কংগ্রেস নেতৃত্বের বৈঠক

তবে, মুখ্যমন্ত্রী পদে দাবিদার তিন নেতাই তাঁদের অনুগামীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন। কোনওরকম প্রতিবাদ, বা পোস্টার ছেঁড়ার মতো কাজের থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শনিবারই দিল্লিতে মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে ছিলেন রাহুল গান্ধীও। কেরলমে কংগ্রেস সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করতেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকের পর চেন্নিথালা বলেন, “সকলেই তাঁদের মতামত জানিয়েছেন এবং রাহুলজি ধৈর্য ধরে তা শুনেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস হাইকমান্ড। যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, তা সকলেই মেনে নেবেন।”

বাম মোর্চার ১০ বছরের শাসনের ইতি ঘটিয়ে কেরলমে সরকার গঠন করতে চলেছে ইউডিএফ। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, কংগ্রেস একাই ৬৩টি আসন জিতেছে। জোট শরিক আইইউএমএল জেতে ২২টি আসনে। কেরল কংগ্রেস ৮টি আসনে জিতেছে। এছাড়া আরএসপি-র ঝুলিতে তিনটি আসনে জয়ী হয় আরএসপি। সব মিলিয়ে ১০২টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস জোট ইউডিএফ। শেষপর্যন্ত কেরলমের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেদিকে নজর থাকবে সব পক্ষের।

Follow Us