
নয়া দিল্লি: ভোটে পরাজয়ের পর বিজেপির বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলকে একজোট হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আহ্বান করেছিলেন বাম-অতি বাম দলগুলিকেও। এর আগে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে এক মঞ্চে থেকেছে তৃণমূল (TMC) ও সিপিএম (CPIM)। কিন্তু, রাজ্যস্তরে তারা দুই পরস্পর বিরোধী দল। কিন্তু, ভোটে হারতেই রাজ্যস্তরেও বামেদের এক ছাতার তলায় আনতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল মমতার আবেদনে সাড়া দিয়ে কি তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করবে সিপিএম? সেই সম্ভাবনা একেবারেই নেই, তা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammad Selim)। এবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। বাংলায় তৃণমূল-সিপিএমের একজোট হওয়া নিয়ে কি কোনও ইঙ্গিত দিলেন তিনি?
তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধা নিয়ে এম এ বেবি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের গণতান্ত্রিক দল বলে দাবি করে। কিন্তু নির্বাচনের সময় আমাদের এক কর্মীকে তৃণমূল কংগ্রেস খুন করেছে। শুধু তাই নয়, আমাদের লোকজনকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতেও দেওয়া হয় না। কোনওভাবেই তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। এধরনের প্রশ্ন করাই উচিত নয়।”
ভোটের ফল মানছে না তৃণমূল। ফলপ্রকাশের পরই তৃণমূল বলেছে এটা মানুষের রায় নয়। নির্বাচনে বিজেপি কারচুপি করেছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। বলেন, “সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের আমলে বাংলায় বামেরা ব্যাপক রিগিং করেছিল। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর অগণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচন পরিচালনা হত। মমতার গুণ্ডা এসে ভোটদানে বাধা দিত। আমাদের একাধিক কার্যালয় দখল করেছে তৃণমূল। এখন যখন বলছেন রিগিংয়ের কারণে তিনি ক্ষমতাচ্যূত হয়েছেন,হতে পারে তিনি বুঝতে পেরেছেন এতদিন উনি যে পদ্ধতি ব্যবহার করতেন বিজেপি তাঁর পদ্ধতিই অনুসরণ করে রিগিং করে তাঁকে হারিয়েছে।”