
নয়া দিল্লি: বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলা করেছিল মমতা-তৃণমূল। মামলাটি দায়ের করেছিলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে সোমবার ছিল সেই মামলার শুনানি। সেখানেই আদালতের বার্তা, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ করবেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। দলত্যাগ বিরোধী আইনে আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার নির্দেশ স্মরণ করিয়ে আশা প্রকাশ করল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, “কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে আমাদের (বিচার ব্যবস্থা) নিজেদের আয়না দেখা উচিত। আমরা নিজেরাই নিজেদের নির্দেশ সময় মতো মানতে পারি না।”
ঋতব্রত শিবিরের ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ‘দলত্যাগ বিরোধী আইনে’ কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না? এই প্রশ্ন তুলে বিধানসভার স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। বিধানসভায় ওই বিধায়কদের পদ খারিজের জন্য কালীঘাট-তৃণমূল যে আবেদন করেছিল, তার তিন মাস সম্পূর্ণ হবে ৮ অক্টোবর। সেই বিষয় উল্লেখ করেন কপিল সিব্বল।
এই ইস্যুতে পরবর্তীতে আরও ১০-১১ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে বলে জানালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা এবং আখরুজ্জামানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারপরেও দলত্যাগ বিরোধী আইন বলবৎ হবে বলে জানালেন কল্যাণ।
সুপ্রিম কোর্ট এ দিন স্পিকারকে পুরনো একটি মামলার বিষয় উল্লেখ করেন। বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, একটি পুরনো মামলায় আদালত সুস্পষ্টভাবে রায় দিয়েছে, দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদনের নিষ্পত্তি করার সময় স্পিকারের ক্ষমতা একটা ট্রাইব্যুনালের সমক্ষমতা সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে আদালত আগেই বলেছে স্পিকারকে যুক্তি সঙ্গত সময়ের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বর্তমান মামলায়, তিন মাসের সময়সীমা আগামী ৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, “আমাদের বিশ্বাস যে, স্পিকার এই আদালতের নির্ধারিত আইন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। তিনি যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যেই যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।”