
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার ক্রয়ে অনুমোদন দিল ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)। এই অনুমোদনে শক্তি বাড়বে তিন বাহিনীর। নজরদারি, আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে ড্রোন হামলা, আধুনিক যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ ভারতের।
ভারতীয় সেনার ক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সোমবার, ২৬ অক্টোবর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে DAC-র বৈঠকে প্রায় ২ লক্ষ ১২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অনুমোদনের ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ ধপ্রস্তুতি, নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হবে।
অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য উচ্চ গতির যান, স্বচালিত ট্র্যাকড কামান, বন্দুকের গুলির উৎস শনাক্ত করার ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি, স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার চালকবিহীন আকাশযান সংগ্রহের প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নজরদারির জন্য UAV, দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের গতিবিধির উপর নজরদারি, ড্রোনের মোকাবিলা এবং নির্দিষ্ট টার্গেটে নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই সরঞ্জামগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে প্রচলিত সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি ড্রোন, উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছে ভারত।
তবে, এই অনুমোদনকে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। DAC-এর অনুমোদন মূলত Acceptance of Necessity (AoN), অর্থাৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক স্বীকৃতি। এরপর নির্ধারিত ক্রয়প্রক্রিয়া ও অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগোতে হবে।
সব মিলিয়ে, প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার এই অনুমোদন ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে প্রস্তাবিত সরঞ্জামগুলি কবে বাহিনীর হাতে পৌঁছবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী ক্রয়প্রক্রিয়া ও চুক্তি সম্পাদনের উপর।