
ইজরায়েলের ‘আয়রন ডোমের’ মতোই এবার ভারতের হাতে রুশ ডিফেন্স সিস্টেম ‘আয়রন আমব্রেলা’। সীমান্তে ভারতীয় জওয়ানদের জন্য ‘লাস্ট লাইন অফ ডিফেন্স‘। এমন এক ডিফেন্স সিস্টেম যা মাটি থেকে আকাশ যে কোনও শত্রুর সঙ্গে অনায়াসে লড়তে পারে।
ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সেরে ফেলল ভারত। মস্কোর কাছ থেকে সুখোইয়ের জন্য অত্যাধুনিক ইঞ্জিন, এস-৪০০ এর মতো সারফেস টু এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, যুদ্ধের সময় ভারী পণ্যবাহী বিমান, চালকবিহীন হামলাকারী ছোট এয়ারক্রাফট কিনছে ভারত। সবমিলিয়ে খরচ প্রায় ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকা। গতবছরের ডিসেম্বরে পুতিন তাঁর ভারত সফরেই মোদীকে মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন, ভারতকে সবচেয়ে আধুনিক সমরাস্ত্র দেবে রাশিয়া। যেমন কথা তেমন কাজ। ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের ছাত্রপত্রও মিলে গেল। পাশাপাশি, ৪৪৫ কোটি টাকা দিয়ে ক্রেমলিনের কাছ থেকে ‘টুনগুসকা’ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম কিনছে ভারত। যা নিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বিশেষ উৎসাহিত। কারণ, সাবেক সোভিয়েত জমানার এই বিশেষ ডিফেন্স সিস্টেম একটি সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্ম থেকে শত্রুর দিকে মিসাইল ও গোলা – দুই-ই দাগতে পারে। উল্টোদিক থেকে ভারতের দিকে ধেয়ে আসা বিভিন্ন গতি ও উচ্চতা থেকে যে কোনও হামলাকে প্রতিহত করতে পারে। আধুনিক যুদ্ধে শুধু ট্যাঙ্ক বনাম ট্যাঙ্ক নয়– যুদ্ধ হয় ড্রোন, মিসাইল ও হামলাকারী চপার থেকে। আর এখানেই বাজিমাত করতে পারে ‘টুনগুসকা’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
কী এই টুনগুসকা বা ‘আয়রন আমব্রেলা’?
এই অত্যাধুনিক ডিফেন্স কামানে রয়েছে ৩০ এমএম অটোমেটিক ক্যানন। যেখান থেকে প্রতি মিনিটে ৫ হাজার রাউন্ড গুলিবর্ষণ করতে পারে। অপারেশন সিঁদুর-এ ভারতের সীমান্তে যেমন সস্তাসিস্টেমের র আত্মঘাতী ড্রোন পাঠিয়েছিল পাকিস্তান, সেই একই পরিস্থিতি তৈরি হলে ওই সব কামিকাজে ড্রোনগুলিকে লক্ষ্য করে সেকেন্ডে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি চালাবে ভারতের টুনগুসকা। আর যদি লাদাখে পাহাড়ের আড়াল থেকে ৮ কিলোমিটার দূর থেকেও মিসাইল বা হেলিকপ্টার থেকে ক্রুজ মিসাইল ধেয়ে আসে ভারতের দিকে? তখন এই ট্যাঙ্কের পেট থেকে বেরিয়ে আসবে – 9M 311 মিসাইল। এই ডুয়াল বা হাইব্রিড চরিত্রের জন্যই আজও রুশ সেনার বড় ভরসা টুনগুসকা। প্রশ্ন উঠতে পারে, ভারত যদি কোটি কোটি টাকা খরচ করে আরও এস-৪০০ কেনেই, তাহলে আবার একটা রুশ ডিফেন্স সিস্টেমের কী দরকার? উত্তরে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, মশা মারতে কামান দাগতে হয় না। ৫ লাখ টাকার কামিকাজে ড্রোন ধ্বংস করতে কোটি টাকার ব্রহ্মস মিসাইল ছোঁড়ার তো দরকার নেই। সেদিক থেকে টুনগুসকা সেনার খরচ বাঁচাবে। ৩৬০ ডিগ্রি এলাকা পাহারা দিতে পারে এর রেডার। ১৮-২০ কিলোমিটার কাছাকাছি পাখিকেও ঘেঁষতে দেবে না। ১৯৮০ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত। ভারত পাচ্ছে আধুনিক 2K22M ও 2K22M1 ভেরিয়েন্ট। একবার ভারতের হাতে এই ডিফেন্স সিস্টেম চলে এলে পাকিস্তান ও চিন সীমান্তে একযোগে পাহারা দেবে এস-৪০০, আকাশ-স্যাম ও টুনগুসকা। এরপরে কার সাহস হবে ভারতের দিকে চোখ তুলে তাকানোর?