
নয়া দিল্লি: দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। আপ নেত্রী অতিশি মারলেনা জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন কেজরীই। জেল থেকেই সব কাজ পরিচালনা করবেন তিনি। যদিও এটি একটি রাজনৈতিক মন্তব্য, তবে এও ঠিক যে এখনও পর্যন্ত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে কেজরীবালের ইস্তফা দেওয়ার কোনও খবর নেই। সেদিক থেকে বিচার করলে, কেজরীবালই দেশের প্রথম রাজনীতিক, যিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসে থাকাকালীন গ্রেফতার হলেন। এর আগে চলতি বছরেরই জানুয়ারিতে ঝাড়খণ্ডের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে গ্রেফতারির আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। ফলে, ভারতের ইতিহাসে প্রথম ‘সিটিং’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গ্রেফতার হলেন কেজরীই।
তবে শুধু কেজরীবাল কিংবা হেমন্ত সোরেনই নয়, অতীতে আরও অনেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীই গ্রেফতার হয়েছেন। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব থেকে শুরু করে তামিলনাড়ুর জয়ললিতা, দু’জনেই নিজেদের রাজ্যের তাবড় নেতা। কিন্তু দু’জনকেই জেলে যেতে হয়েছিল। এছাড়া অন্ধপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওম প্রকাশ চৌটালা, ঝাড়খণ্ডের মধু কোড়াও রয়েছেন এই লম্বা তালিকায়।
আরজেডি সুপ্রিমো লালুকে ২০১৩ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায়। একইসঙ্গে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্রও। লালু ও তাঁর ছেলে তেজস্বীর বিরুদ্ধে বর্তমানে জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার মামলার তদন্ত চলছে। ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দুই বার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন লালু।
জয়ললিতাও ১৯৯১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৬ সালে এক দুর্নীতির মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন জয়ললিতা এবং জেল হয়েছিল তাঁর।
হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চৌটালা গ্রেফতার হয়েছিলেন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়। ২০১৩ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং দশ বছরের জেল হয়। আয় বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় ২০২২ সালে আরও চার বছরের জেল হয় তাঁর। ১৯৮৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
৩১৭ কোটির এক দুর্নীতির মামলায় গত বছরেই গ্রেফতার হয়েছিলেন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি ২০১৪-২০১৯ সাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। মধু কোড়াও ২০০৬-২০০৮ সাল ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৯ সালে খনি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন তিনি। তবে কেজরীবাল বা হেমন্ত সোরেনের মতো বিষয় এঁদের ক্ষেত্রে ছিল না। এঁরা প্রত্যেকেই গ্রেফতারির সময় ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। হেমন্ত সোরেনও অবশ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়েই গ্রেফতার হয়েছেন, তবে গ্রেফতারির ঠিক আগের মুহূর্তেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেক ইস্তফা দিয়েছিলেন।