
নয়া দিল্লি: অবশেষে জামিন পেলেন উমর খলিদ। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা উমর খলিদকে আজ, শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট তিন দিনের অন্তর্বর্তী জামিন দিল। উমর খলিদের মায়ের অস্ত্রোপচারের জন্য এই অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালে রাজধানীতে যখন সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলন চলছিল, সেই সময়ে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গা হয় এবং ৫৩ জনের মৃত্যু হয়। দিল্লি দাঙ্গার পরে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ (UAPA) মামলায় গ্রেফতার হন উমর খলিদ। অভিযোগ ছিল, এই দাঙ্গার সঙ্গে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের যোগ ছিল এবং এটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। ওই মামলায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে উমর খলিদকে গ্রেফতার করা হয়।
তারপর থেকে তিনি জেলেই রয়েছেন। কয়েকবার প্য়ারোলে জেলের বাইরে এলেও, বারংবার বিভিন্ন আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। তবে এবার মেডিক্য়াল গ্রাউন্ডে উমরকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হল তিনদিনের জন্য। জানা গিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকে ৩ জুন অন্তর্বর্তী জামিনে জেল থেকে বেরতে পারবেন উমর।
দিল্লি হাইকোর্টে ২২ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন জেএনইউ-র ছাত্রনেতা। তার আগে ট্রায়াল কোর্টেও তিনি কাকার শোকসভায় সামিল হওয়া এবং মায়ের অস্ত্রোপচারের জন্য জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত ১৯ মে ট্রায়াল কোর্ট সেই আর্জি খারিজ করে দেয় এই মর্মে যে উমরের দর্শানো কারণগুলি অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য যথেষ্ট নয়।
এর আগে, ট্রায়াল কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার ঠিক আগের দিনই সুপ্রিম কোর্টে উমর-শার্জিলের জামিন না পাওয়া নিয়ে সমালোচনা করা হয় নিজেদের রায়েরই। শীর্ষ আদালত জানায় যে জামিন পাওয়াই দস্তুর, দিনের পর দিন জেলে আটকে রাখা ব্যতিক্রম। ইউএপিএ আইনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম হওয়া উচিত। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট উমর খলিদ ও শার্জিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করার রায়ের বিপরীতে পর্যবেক্ষণ রাখা হয়।