
নয়াদিল্লি: স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিস। তদন্ত চলাকালীন শান্তি বজায় রাখতে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও এক জন জামিনদার হাজির করার সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন AISA-র সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর সেই আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল আদালত। তবে, মামলার শুনানিতে যে সমস্ত নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেগুলি নেহা বোরাকে দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।
পাশাপাশি, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৩৫ নম্বর ধারার পরিধি ও তাৎপর্য খতিয়ে দেখার জন্য স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে (SEM) নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্তের শুরুতেই নেহা বোরাকে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড জমা দিতে বাধ্য করা যায় কি না, নাকি তদন্ত চলাকালীন পরবর্তী কোনও ঘটনায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে তবেই বন্ডের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা উচিত, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
BNSS-এর ১৩৫ নম্বর ধারায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষ পরিস্থিতিতে তদন্ত চলাকালীন অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে হলে ম্যাজিস্ট্রেটের বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ারও ক্ষমতা রয়েছে। নেহা বোরার আবেদন খারিজের পক্ষে সওয়াল করে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, আইনজীবী অভীক চিমনির মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে নেহা বোরার দাবি, তাঁকে পাঠানো নোটিস অস্পষ্ট এবং তথ্যগতভাবে ভুল। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তার সমর্থনে কোনও তথ্যপ্রমাণও নোটিসে দেওয়া হয়নি।
গত ১৭ অক্টোবর BNSS-এর ১২৬ নম্বর ধারায় ওই নোটিস জারি করা হয়েছিল। তার আগে, ১৬ অক্টোবর দিল্লিতে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলে অংশ নেওয়ার পর নেহা বোরাকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল।
নোটিসে নেহা বোরাকে গত ১৯ অক্টোবর স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন শান্তি বজায় রাখার জন্য কেন তাঁকে ব্যক্তিগত বন্ড ও এক জন জামিনদার জমা দিতে বাধ্য করা হবে না, সেই বিষয়ে তাঁকে জবাব দিতে বলা হয়। BNSS-এর ১২৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ, জনশান্তি বিঘ্নিত করা বা এমন কোনও কাজ করার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকলে, যার ফলে জনশান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, সে ক্ষেত্রে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওই ব্যক্তিকে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর মান্ডি হাউসে বিক্ষোভ চলাকালীন স্লোগান দিয়েছিলেন নেহা বোরা। BNSS-র ১৬৩ নম্বর ধারায় জারি করা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বারবার যন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভ দেখান এবং অন্যদেরও ওই প্রতিবাদে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন বলে অভিযোগ।
শুনানিতে নেহা বোরার হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর সিনিয়র আইনজীবী বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য নাগরিকদের কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই। গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তনের দাবি তোলাও কোনও অন্যায় নয়। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তন সম্ভব একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে। নয়াদিল্লিতে ‘দুর্বত্তদের’ জমায়েতের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা যায় না বলেও আদালতে সওয়াল করে পুলিশ। তবে, মামলায় আদালতের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ এবং স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া নির্দেশের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও সামনে আসেনি।