
নয়া দিল্লি: বিচারপতি ও আদালতের বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করার জেরে এবার ফ্যাসাদে পড়লেন এক প্রবাসী মহিলা। কড়া পদক্ষেপ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১০ জানুয়ারি। অনিতা কুমারী গুপ্তা নামে ওই অস্ট্রেলিয়া নিবাসী প্রবাসী ভারতীয় মহিলা এক মামলার শুনানিতে ভার্চুয়ালি হাজির ছিলেন দিল্লি হাইকোর্টে। সেই সময় বিচারপতি ও আদালতের বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন ওই মহিলা। আর সেই ঘটনার জেরে এবার স্বতোঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণার বেঞ্চ।
আগামী ১৬ জানুয়ারি ওই মহিলাকে সশরীরে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। একইসঙ্গে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসকেও (FRRO) নির্দেশ দিয়েছেন, যদি ওই মহিলা শুনানির দিনের আগে ভারতে ফিরে আসেন, তাহলে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পাসপোর্ট ও ভিসা বাজেয়াপ্ত করার জন্য। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির মন্তব্য, ‘ওই মহিলা যে ধরনের কথা বলেছেন, তা স্পষ্টভাবে অবমাননাকর এবং আদালতের মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ।’
ঘটনার দিন আদালতে মামলার শুনানির সময় দু’পক্ষেরই আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। দু’পক্ষের আইনজীবীই মামলার চূড়ান্ত শুনানির জন্য ১৬ এপ্রিল দিনটিতে সম্মত ছিল। এরপরও ওই প্রবাসী মহিলার এ হেন আচরণ দেখে স্তম্ভিত আদালত। সিডনি নিবাসী ওই প্রবাসী মহিলার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শোকজ় নোটিস ইস্যু করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত অবমাননা আইনে কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে বলা হয়েছে। দিল্লির ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসকেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যদি শুনানির আগে ওই মহিলা ফিরে আসেন, তাহলে যেন তাঁর পাসপোর্ট – ভিসা জমা নিয়ে নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ ছাড়া ওই মহিলা যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন, সে কথাও বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
প্রবাসী ওই মহিলার আইনজীবীকে বলা হয়েছে, আদালতের এই নির্দেশ তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরাতেও ভারতীয় দূতাবাসকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আদালতের নির্দেশ যাতে ওই মহিলার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, আদালত অবমাননা আইন, ১৯৭১ অনুযায়ী যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হন, সেক্ষেত্রে তাঁর ছয় মাসের জেল, বা ২ হাজার টাকার জরিমানা কিংবা উভয়ই হতে পারে।