
কলকাতা: দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য সুখবর। এবার থেকে আরও কম সময়ে দিল্লি থেকে হাওড়া (Delhi-Howrah Route) পৌঁছতে পারবেন। সাধারণ রাজধানীতে এই রুটে সময় লাগে মোটামুটি ১৭ ঘণ্টার একটু বেশি। তবে, বন্দে ভারত স্লিপারে তার থেকেও দুই ঘণ্টা সময় কম লাগবে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি রেলওয়ে বোর্ডের বৈঠকে এই রুটে বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper) চালু করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত ছাড়পত্র মিলতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। তবে ট্রেন চালুর দিনক্ষণ, চূড়ান্ত সময়সূচি কিংবা ভাড়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি রেল।
রেলওয়ে বোর্ডের প্রস্তাব অনুযায়ী, নয়াদিল্লি থেকে হাওড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৪৯ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে বন্দে ভারত স্লিপার। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকেল ৫টা নাগাদ নয়াদিল্লি থেকে ছাড়তে পারে ট্রেনটি। পরের দিন সকাল ৮টা নাগাদ হাওড়ায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ১৫ ঘণ্টায় যাত্রা শেষ হতে পারে।
তুলনায়, হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসে যাত্রা করতে প্রায় ১৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লাগে। ফলে প্রস্তাবিত সময়সূচি কার্যকর হলে রাজধানীর তুলনায় প্রায় দু’ঘণ্টা কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর সুযোগ মিলতে পারে। যদিও ট্রেনটির সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত নয়।
সূত্রের খবর প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, নয়াদিল্লি থেকে হাওড়া যাওয়ার পথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামতে পারে ট্রেনটি। সম্ভাব্য স্টপেজের তালিকায় রয়েছে—
অর্থাৎ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে পারে ট্রেনটি। এর ফলে শুধু দিল্লি বা কলকাতার যাত্রীরাই নন, পূর্ব ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের যাত্রীরাও উপকৃত হতে পারেন। তবে কোন কোন স্টেশনে ট্রেনটি থামবে, তা রেলের চূড়ান্ত ঘোষণার পরেই নিশ্চিত হবে।
প্রস্তাবিত বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে মোট ১৬টি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ থাকতে পারে। এর মধ্যে—
দীর্ঘ দূরত্বের রাতের যাত্রাকে আরও আরামদায়ক করে তুলতেই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের নকশা। উন্নতমানের বার্থের পাশাপাশি থাকছে স্বয়ংক্রিয় দরজা, সিসিটিভি নজরদারি, আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি যোগাযোগের সুবিধা। নিরাপত্তার জন্য থাকছে ‘কবচ’ প্রযুক্তিও।
রেলের তরফে এখনও ভাড়া নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এসি থ্রি-টায়ারের ভাড়া প্রায় ৩,০০০ টাকা, এসি টু-টায়ারের ভাড়া প্রায় ৪,০০০ টাকা এবং ফার্স্ট এসির ভাড়া প্রায় ৫,১০০ টাকা হতে পারে। তবে এগুলি অনুমানমাত্র। রেলের তরফে চূড়ান্ত ভাড়া ঘোষণা করা হলে তবেই তা নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হাওড়া-কামাখ্যা রুটে বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবার নিয়মিত যাত্রা শুরু হয়েছে বলে রেল মন্ত্রকের তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লি-হাওড়া রুটে এই পরিষেবা চালু হলে পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। তবে কবে থেকে ট্রেনটি চলবে, কোন কোন স্টেশনে থামবে এবং বুকিং কবে শুরু হবে, সেই বিষয়ে রেলওয়ে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।