
নয়াদিল্লি: দিল্লিতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর পর খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই ৪৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের। ২৭ অক্টোবর দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় দিল্লিতে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ১.৪৫ কোটি থেকে কমে খসড়া তালিকায় দাঁড়িয়েছে ৯৭.৫৩ লক্ষ। তবে দিল্লির সিইও দফতর স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।
নির্বাচন কমিশন দিল্লিবাসীকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নিজেদের নাম যাচাই করে দাবি বা আপত্তি জানানোর আবেদন করেছে। গত ৩০ জুন এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সময় ভোটার তালিকা সংশোধনের ফর্ম সংগ্রহ করতে বাড়ি বাড়ি যান আধিকারিকরা। দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রত্যেক যোগ্য ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, যথাযথ শুনানি ছাড়া খসড়া ভোটার তালিকা থেকে কোনও নাম বাদ দেওয়া যাবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
দিল্লির SIR: পরিসংখ্যান কী বলছে?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর সময় দিল্লিতে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ১,৪৫,১০,২৯৯। গত ১৭ অগস্টের মধ্যে আধিকারিকদের কাছে ৯৭,৫৩,৫৭৭টি ভোটার গণনার ফর্ম জমা পড়ে। বাকি ৪৭,৫৬,৭২২ জন ভোটার ফর্ম জমা দেননি। তাঁদের নথি ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত অথবা একাধিকবার নথিভুক্ত’ (ASDD) শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।
গত ৩১ অগস্ট প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় ৪৯,৮৮,৯৯৩ জন পুরুষ, ৪৭,৬৪,১৩৭ জন মহিলা এবং ৪৪৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের নাম রয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান খসড়া তালিকার। আগামী ৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।
৩৩ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে নোটিস-
যাচাইয়ের জন্য মোট ৩৩,১৪,০৩২ জন ভোটারকে চিহ্নিত করেছিলেন নির্বাচনী আধিকারিকরা। তাঁদের মধ্যে ১৩,৭৯,৭৮৯ জনের নাম ২০০২ সালে হওয়া আগের SIR-র ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানো যায়নি। অন্যদিকে, যাচাইয়ের সময় অসংগতি ধরা পড়েছে আরও ১৯,৩৪,২৪৩টি ক্ষেত্রে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, মোট ৩৩,১৪,০৩২টি নোটিসের মধ্যে ৩১,২৬,৫৭৬টির নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, নিষ্পত্তির হার ৯৪.৩৪ শতাংশ। এই ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
৩০ অক্টোবরের আগে দিল্লির ভোটারদের কী করতে হবে?
ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ফর্ম জমা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী আধিকারিকরা বিশেষ নিবন্ধন শিবিরের আয়োজন করেছেন। গৃহহীন মানুষ, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি এবং উচ্ছেদ অভিযানের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া সম্প্রদায়ের কাছেও পৌঁছনোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ দিন ৩০ অক্টোবর। জমা পড়া দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা। সহায়তার জন্য বাসিন্দারা ভোটার হেল্পলাইন ১৯৫০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া স্থানীয় নির্বাচনী দফতর থেকেও সাহায্য নেওয়া যাবে। আগামী ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত দিন।