
মুম্বই: শ্বশুরবাড়িতে বউমাকে রান্না করতে না দেওয়া একধরনের মানসিক অত্যাচার। এই আচরণ তাঁর মর্যাদায় আঘাত করে। এমনটাই বলল বম্বে হাইকোর্ট। স্ত্রীর আনা মানসিক অত্যাচারের অভিযোগের মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। সেই মামলাতেই এমনটা পর্যবেক্ষণ রাখল আদালত।
বম্বে হাই কোর্টের নাগপুর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। ওই দম্পতির বিয়ে হয় ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে। মহিলার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সমস্যা-অশান্তি শুরু হয়। তাঁর সঙ্গে বাড়িতে পরিচারিকার মতো ব্যবহার করা হত, তাঁর মৌলিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছিল।
ওই মহিলার আরও অভিযোগ ছিল যে তাঁকে রান্নাঘরে ঢুকতে দেওয়া হত না। বাড়িতে রান্নার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বাইরে থেকে খাবার এনে খেতে হত। আরও দাবি, তাঁর গহনা ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এমনকী বাপের বাড়িও যেতে দেওয়া হত না। ডিভোর্সের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এদিকে, স্বামীর তরফে দাবি করা হয় যে তিনি ডিভোর্সের পিটিশন ফাইল করার পরই প্রতিশোধ নিতে এই সমস্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিচারপতি উর্মিলা জোশী ফালকে-র বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। বিচারপতি ওই মহিলার স্বামীর বিরুদ্ধেে আনা অত্যাচারের অভিযোগ খারিজ করতে অস্বীকার করেন। বলেন যে ওই ব্যক্তি ক্রমাগত তাঁর স্ত্রীকে হেনস্থা করছিলেন, তাঁর গতিবিধিতে বাধা দিচ্ছিলেন এবং বাড়িতে তাঁর অতি আবশ্যিক জিনিস থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছিল। এগুলি মানসিক অত্যাচার।
ওই মহিলা আরও অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর শাশুড়ির হয়েও স্বামী তাঁর উপরে অত্যাচার করত। আদালত সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়। শুধুমাত্র স্বামীর মা বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যায় না। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়।