
পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহ। বিজ্ঞানীদের কাছে এই হিমবাহের পরিচিতি ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ বা ‘প্রলয়ের হিমবাহ’ নামে। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, আগের অনুমানের তুলনায় অনেক দ্রুত গলছে এই বিশাল বরফের স্তূপ। এর সম্পূর্ণ ধস নামলে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। তার জেরে উপকূলবর্তী শহরগুলিতে বন্যার আশঙ্কা বাড়বে। সেই ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে কলকাতার মতো শহরও।
কী বলছে নতুন গবেষণা?
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরভাইন শাখা এবং নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা থোয়াইটস হিমবাহের বরফের নীচে কী ঘটছে, তা বোঝার জন্য নতুন একটি মডেল তৈরি করেছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Nature Communications পত্রিকায়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে এই হিমবাহের গলনের কারণে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১.২ ইঞ্চি বা ৩ সেন্টিমিটার বাড়তে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এই বৃদ্ধি প্রায় দ্বিগুণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহের নীচে সমুদ্রের তুলনামূলক উষ্ণ জল প্রবেশ করে বরফ গলিয়ে দিচ্ছে। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার প্রভাবে বরফের নীচে জল ঢোকা ও বেরনোর প্রক্রিয়ায় এই গলন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। পাশাপাশি, হিমবাহের নীচের জমি ঢালু হওয়ায় বরফ গলে গেলে উষ্ণ জল আরও ভিতরে পৌঁছতে পারে। বর্তমানে সমুদ্রের তলায় থাকা দুটি উঁচু শৈলশিরা হিমবাহটিকে দ্রুত পিছিয়ে যাওয়া থেকে কিছুটা আটকে রেখেছে। তবে গবেষকদের অনুমান, ২১০০ সালের মধ্যে এই হিমবাহের একটি শৈলশিরা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ।
পুরো হিমবাহ ভেঙে পড়লে কী হবে?
থোয়াইটস হিমবাহ সম্পূর্ণ ধসে পড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২ ফুটেরও বেশি বাড়তে পারে। আরও বড় আশঙ্কা হল, এই হিমবাহ অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফের স্তরকে আটকে রাখার কাজ করে। এটি ভেঙে পড়লে আশপাশের বরফের স্তরগুলিও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটি সম্ভাব্য চরম পরিস্থিতি, তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস নয়।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে উপকূলবর্তী ও বদ্বীপ অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। কলকাতা, ঢাকা, ম্যানিলা, নিউইয়র্কের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলিও দীর্ঘমেয়াদে বিপদের মুখে পড়তে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো জরুরি। কারণ, ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া উষ্ণায়নের প্রভাবেও আগামী দিনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও বাড়তে পারে।