AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Dubai Road Accident: দুবাইয়ের পথ দুর্ঘটনায় নিহত-আহতদের পরিবারকে ২.৬ কোটি টাকার সাহায্য ডঃ শামসেরের, নিলেন পড়াশোনার দায়িত্বও

Dubai road accident compensation: গত ৯ জুন দুবাইয়ে মিনিবাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় সাতজন শ্রমিকের। আহত হন আরও নয়জন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতের বাসিন্দা এবং একজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক ছিলেন। ড. ভায়ালিলের প্রতিনিধিরা নিহতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন, সমবেদনা জানান এবং আর্থিক সাহায্য তুলে দেন।

Dubai Road Accident: দুবাইয়ের পথ দুর্ঘটনায় নিহত-আহতদের পরিবারকে ২.৬ কোটি টাকার সাহায্য ডঃ শামসেরের, নিলেন পড়াশোনার দায়িত্বও
নিহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আর্থিক সাহায্য।Image Credit: TV9 বাংলা
| Updated on: Jul 06, 2026 | 11:57 AM
Share

দুবাই: গত জুন মাসে দুবাইয়ের এমিরেটস রোডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বসবাসকারী ভারতীয় উদ্যোগপতি তথা সমাজসেবী ড. শামসের ভায়ালিল। তাঁর ঘোষণা করা ২.৬ কোটি টাকার মানবিক সহায়তা ইতিমধ্যেই তেলঙ্গানা ও উত্তর প্রদেশে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার নিহত এক শ্রমিকের পরিবারও আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।

গত ৯ জুন দুবাইয়ে মিনিবাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় সাতজন শ্রমিকের। আহত হন আরও নয়জন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতের বাসিন্দা এবং একজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক ছিলেন। ড. ভায়ালিলের প্রতিনিধিরা নিহতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন, সমবেদনা জানান এবং আর্থিক সাহায্য তুলে দেন।

জানানো হয়েছে,  নিহত শ্রমিকের পরিবার পিছু ২৬ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্যও বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে ডঃ শামসের ভায়ালিলের তরফে।

তেলঙ্গানার নিহত শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য-

তেলঙ্গানার বাসিন্দা যে তিন নিহত শ্রমিকের মৃত্য়ু হয়েছে দুবাইয়ের পথ দুর্ঘটনায়, তারা হলেন সালিম সাইয়দ হুসেন (৫১), আবদুল রফিক আবদুল রহিম (৩৭) এবং থিরুপতি গোল্লাপল্লি চন্দ্রাইয়া (২৩)।

সালিমের পরিবার জানিয়েছেন, মাত্র আড়াই মাস আগে তিনি পরিবারের আর্থিক অবস্থা উন্নতি করতে এবং সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ গড়তে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছেন। তাঁদের এক সন্তানের শারীরিক সমস্যা রয়েছে এবং বড় মেয়ের বিয়ের কথাও চলছিল।

অন্যদিকে নিহত থিরুপতির বাবা-মা জানান, সাত মাস আগে প্রথমবার বিদেশে কাজে গিয়েছিলেন তাঁদের ছেলে। নিয়মিত ফোন করে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন এবং বিদেশের কাজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতেন।

আবদুল রফিকের পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী রাজিয়া বেগম ও ছোট মেয়ে রিদা ফাতিমা। তাঁর বাবা বলেন, ২০১৫ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আরও দুই সন্তানকে হারিয়েছিলেন। এবার রফিকের মৃত্যুতে পরিবার আবারও গভীর সংকটে পড়েছে।

উত্তর প্রদেশের নিহত শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য-

উত্তর প্রদেশের যে তিন শ্রমিক নিহত হন দুর্ঘটনায়, তারা হলেন আবদুল রশিদ জাকির হুসেন (৩৮), মার্কণ্ডেয় চৌহান (৩৯) এবং মহম্মদ সাকিব (৩১)।

মার্কণ্ডেয়-র স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে অঙ্কিতা চৌহান সম্প্রতি দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেছে। তাঁর পরিবারের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেন ড. শামসের ভায়ালিল। অঙ্কিতা জানান, তিনি বিএসসি নার্সিং পড়তে চান। ড. ভায়ালিল তাঁকে পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি কোর্স শেষ হলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার কথাও বলেন।

আবদুল রশিদের পরিবার জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মাত্র দু’মাস আগে তিনি কাজের জন্য দুবাই গিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে। পরিবারের বক্তব্য, এটাই তাঁর শেষ বিদেশে যাত্রা ছিল। ফিরে এসে আর বিদেশে যাবেন না বলেই জানিয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, মহম্মদ সাকিব প্রায় আট মাস আগে প্রথমবার দুবাইয়ে কাজে যান। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করাই ছিল তাঁর স্বপ্ন।

শ্রীলঙ্কার পরিবারও পেল সহায়তা-

শ্রীলঙ্কার মুল্লাইত্তিভু জেলার বাসিন্দা সামুভেল রেঙ্গাসামির পরিবারকেও আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন ডঃ শামসের।  মুল্লাইত্তিভু ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর স্ত্রী ও একটি ছোট মেয়ে রয়েছে।

আহত শ্রমিকদেরও সাহায্য-

এই দুর্ঘটনায় আহত ৯ জন শ্রমিককেও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আঘাত কতটা গুরুতর, সেই অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে আটজন ভারতীয় এবং একজন নেপালের নাগরিক। কয়েকজন ইতিমধ্যেই এই অর্থ পেয়েছেন। দুবাইয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই গুরুতর আহত শ্রমিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও সাহায্যের টাকা পাঠানো হয়েছে।

Follow Us