
মুম্বই: বুধবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতি আরও এক বড় মোচড়ের সাক্ষী হয়েছে। সকলেই প্রস্তুত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের প্রত্যাবর্তনের জন্য। কিন্তু, বিজেপির পক্ষ থেকে ফড়ণবীস নিজেই জানান, মুখ্যমন্ত্রী হবেন একনাথ শিন্ডে। বস্তুত, ৯ দিন আগে বিদ্রোহ ঘোষণার পর থেকেই গোটা ভারতের রাজনৈতিক মহলের চর্চায় রয়েছেন শিন্ডে। একজন অটোরিকশা চালক হিসাবে জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। এই কট্টর শিবসৈনিকের উত্থান ঘটেছে একেবারে ধাপে ধাপে – প্রথমে একজন কর্পোরেটর, তারপর বিধায়ক, তারপর মন্ত্রী এবং অবশেষে এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন।
১৯৬৪ সালে সাতারা জেলার জাওয়ালিতে জন্মেছিলেন তিনি। ক্লাস টেনের বেশি পড়াশোনার সুযোগ পাননি। জীবন শুরু করেছিলেন রিকশাচালক হিসেবে। সেই পেশায় থাকতে থাকতেই গত শতাব্দীর আটের দশকে শিবসেনায় যোগ দেন। শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা। ১৯৯৭ সালে থানে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কর্পোরেটর নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে দ্বিতীয়বার। এরপর থানের কোপারি-পাচপাখাড়ি কেন্দ্র থেকে পরপর চারবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। উদ্ধব ঠাকরের মন্ত্রিসভায় তিনি নগরোন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী ছিলেন। রিকশাচালক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে পৌঁছনোর পথে কত টাকা কামিয়েছেন তিনি? আসুন জেনে নেওয়া যাক কত সম্পত্তির মালিক মহারাষ্ট্রের নয়া মুখ্যমন্ত্রী?
প্রায় ১২ কোটি টাকার মালিক
৩ বছর আগে, বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে মহা বিকাশ আগাড়ি মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছিলেন একনাথ শিন্ডে। এই সময়কালে তাঁর সম্পদ কতটা বেড়েছে তা জানার কোনও উপায় নেই। তবে, ২০১৯ সালের বিধানসভা ভোটের আগে, মনোনয়নপত্র পেশ করার সময় দাখিল করা হলফনামা থেকে, তাঁর সেই সময়ের সম্পদের বিবরণ জানা যায়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সেই হলফনামা অনুযায়ী একনাথ শিন্ডের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১১.৫৬ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে ৯.৪৫ কোটি টাকা স্থাবর সম্পদ এবং ২.১০ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। আর তাঁর আয়ের উৎস? শিন্ডে জানিয়েছেন, তাঁর নির্মাণ ব্যবসা রয়েছে।
গাড়ি
একনাথ শিন্ডের মোট সাতটি গাড়ি রয়েছে। দুটি স্করপিও, একটি বোলেরো, দুটি ইনোভা এবং একটি আর্মাডা। এছাড়া আছে একটি টেম্পো। ২০১৯-এ এই সমস্ত গাড়ির সম্মিলিত মূল্য ছিল ৪৬ লক্ষ টাকা।
সোনা
হলফনামায় শিন্ডে বলেছেন তিনি ১১০ গ্রাম সোনার মালিক এবং তাঁর স্ত্রী ৫৮০ গ্রাম সোনার মালিক। এছাড়া তাঁর একটি রিভলবার এবং একটি পিস্তল রয়েছে। এই দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সোনার সেই সময় বাজার মূল্য ছিল ২৫ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা।
বিনিয়োগ
শিবম পরিবহন – ৩ লক্ষ
শিবম এন্টারপ্রাইজ – ১১ লক্ষ
বোম্বে ফুড প্যাকারস – ৮ লক্ষ
জমি
মহাবালেশ্বরের দারে গ্রামে একনাথ শিন্ডের নামে ৫ হেক্টর বা প্রায় ১২ একর কৃষি জমি আছে। আর থানের চিখলগাঁওয়ে তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ১.২৬ হেক্টর কৃষি জমি। ২০১৯ সালের হিসেবে ওই দুই জমির বাজার মূল্য ছিল ২৮ লক্ষ টাকা। এই দুই জমির মূল্য বর্তমানে যে আরও বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
বাড়ি
থানে পশ্চিমের ওয়াগল এস্টেটে ৩৬০ বর্গ ফুটের একটি ঘর। ল্যান্ডমার্ক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে ২৩৭০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট। শিবশক্তি ভবনে তার স্ত্রীর নামে একটি ১০৯০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে এই বাড়ি ও ফ্ল্যাটগুলির সম্মিলিত বাজারমূল্য ছিল ৯ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া, ওয়াগল এস্টেটে একনাথ শিন্ডের স্ত্রীর নামে একটি ৩০ লক্ষ টাকার দোকানও রয়েছে।
ঋণ
২০১৯ সালে একনাথ শিন্ডে জানিয়েছিলেন তার ৩.৭৪ কোটি টাকা ঋণ ছিল। এর মধ্যে ২.৬১ কোটি টাকার গৃহঋণ এবং ৯৮ লক্ষ টাকার রিয়েলটি লোন রয়েছে।