
মুম্বই: এল নিনোর ভয়ঙ্কর প্রভাব। সত্যি সত্যিই খরা দেখা দিল ভারতে। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরেই খরা দেখা দিয়েছে মহারাষ্ট্রে। আজ, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মহারাষ্ট্রের ২৬৫ তালুকে খরা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। খরায় ফসলের ক্ষতি হলে চাষিদের আর্থিক সাহায্য করা হবে বলেই ঘোষণা করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস রাজ্যের ৩৫৮টি তালুকের মধ্যে ২৬৫টিতে খরা ঘোষণা করেছেন। যে তালুকায় ট্রিগার ওয়ান কার্যকর করা হয়েছে, সেখানেও খরা ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু রাজ্যের ৭৫ শতাংশ এলাকাকে খরা কবলিত ঘোষণা করা হয়েছে, তাই কৃষকদের বিপুল আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
মহারাষ্ট্র সরকার বিদর্ভ, মারাঠওয়াড়া, খান্দেশ, পশ্চিম মহারাষ্ট্র এবং কোঙ্কনের কয়েকটি তালুকে খরা ঘোষণা করেছে। সরকার অঞ্চলভিত্তিক খরা ঘোষণা করেছে। রায়গড়, রত্নাগিরি, নাসিক, সিন্ধুদুর্গ, জলগাঁও, নন্দুরবার, অহল্যানগর, সোলাপুর, সাংলি, জালনা, বিড, লাতুর, নান্দেদ, হিঙ্গোলি, অমরাবতী, আকোলা সহ অনেক জেলায় খরা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে আরও তীব্র পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রভাব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সতর্কতায় বলা হয়েছে যে এই বছরের শেষের দিকে এল নিনো অত্যন্ত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এল নিনো শক্তিশালী হলেই যে গোটা ভারতে একই ধরনের আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নয়। যেকোনও অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাব নির্ভর করবে ঋতু, সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার উপর। তবে আগামী মাসগুলোতে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যে আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকেই এল নিনো বলে। মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, যা এল নিনোর একটি প্রধান সূচক, স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) মতে, এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা জুলাই মাসে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল এবং পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি এল নিনোর আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মডেলগুলো পূর্বাভাস দিচ্ছে যে এই সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা গড়ে প্রায় ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া ব্যবস্থা, যা বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনকে প্রভাবিত করে। ভারতেও এর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হতে পারে। তবে দেশের সব অংশে এর প্রভাব একই রকম নাও হতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) সেপ্টেম্বর-নভেম্বর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে।
বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন কৃষিকাজকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে বৃষ্টি-নির্ভর এলাকাগুলোতে জলের সঙ্কট এবং ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
এল নিনোর প্রভাবে কোন ফসলের ঠিক কতটা ক্ষতি হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এর প্রভাব স্থানীয় আবহাওয়ার অবস্থা, বৃষ্টিপাত এবং জলের প্রাপ্যতার মতো বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করবে।
এল নিনো বিশ্বের কিছু অংশে উচ্চ তাপমাত্রা এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) সতর্ক করেছে যে এল নিনো তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বয়স্ক, শিশু এবং দীর্ঘদিন ধরে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাপপ্রবাহের প্রভাব থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।