Election Commission of India: SIR-এ মতপার্থক্য থেকে চিঠি বিতর্ক, পয়েন্ট ধরে ধরে সব অভিযোগের ব্যাখা দিল কমিশন

Election Commission of India on SIR: SIR প্রক্রিয়া, ECINet, ফর্ম ৬, এবং সম্প্রতি ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ চিঠি নিয়ে ওঠা প্রশ্ন-সহ একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ কমিশনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠেছে, তার প্রত্যেকটির আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অভিযোগ খণ্ডন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে কমিশন। 

Election Commission of India: SIR-এ মতপার্থক্য থেকে চিঠি বিতর্ক, পয়েন্ট ধরে ধরে সব অভিযোগের ব্যাখা দিল কমিশন
ফাইল ছবিImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Sep 26, 2026 | 8:23 PM

নয়া দিল্লি: SIR প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় দেশজুড়ে। বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় নির্বাচন কমিশনকে। এই আবহে,  শনিবার নয়া দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু ও বিবেক জোশী। বিকেল ৩টেয় বৈঠকে বসে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এরপর একটি বিস্তারিত বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে SIR প্রক্রিয়া, ECINet, ফর্ম ৬, এবং সম্প্রতি ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ চিঠি নিয়ে ওঠা প্রশ্ন-সহ একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ কমিশনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠেছে, তার প্রত্যেকটির আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অভিযোগ খণ্ডন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে কমিশন।

কোন অভিযোগের কী ব্যাখ্যা করা হয়েছে, দেখে নিন

অভিযোগ

অন্যতম বড় অভিযোগ ছিল একটি চিঠি নিয়ে। দুই নির্বাচন কমিশনার চিঠি লিখেছিলেন ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে। সেই চিঠিতে মূলত জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দুই কমিশনার এস এস সান্ধু ও বিবেক জোশী। সংখ্যাগরিষ্ঠতাদের কথা মানা হচ্ছে না বলে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে একটা প্রশ্ন উঠছিল যে জাতীয় নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক সংস্থা। সেক্ষেত্রে, কেন ক্যাবিনেটে চিঠি গিয়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

ব্যাখ্যা

বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা করে অবস্খান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। চিঠি প্রসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে,  ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠি নির্বাচন কমিশন বা তার IT বিভাগের কোনও নীতিগত বিষয় সংক্রান্ত ছিল না। ওই চিঠি ECI-তে ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের কাজের ধরন নিয়ে ছিল। অর্থাৎ ওই আধিকারিকের কাজের ভুল-ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের জারি করা কাজ পুনর্বণ্টনের নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হয়নি। দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পর ওই নির্দেশগুলি বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে দাবি কমিশনের।

একইসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের আইটি বিভাগের উপর নজরদারির দায়িত্বও ‘বাস্তবে কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি’।

অভিযোগ

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্যের অভিযোগ ওঠে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তদন্তমূলক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে বিগত ১০ মাসে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার আপত্তি তুলেছিলেন।

ব্যাখ্যা

SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে কোনও মতপার্থক্য ছিল কি না, এমনই দাবি করেছে কমিশন। কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের ২৪ জুন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে SIR চালুর যে নির্দেশ জারি হয়েছিল, তা কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই হয়েছিল। শুক্রবারও নির্বাচন কমিশন সূত্রে একই দাবি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে SIR-এর যে সময়সূচিগুলি প্রকাশ করা হয়েছিল, সেগুলিও কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই জারি হয়েছিল। মূল SIR নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে বলেও উল্লেখ করেছে কমিশন।

অভিযোগ

SIR প্রক্রিয়ার সময় ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ঘোষণাপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেখানে নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বাবা-মায়ের নামের মাধ্যমে আগের SIR-এর সঙ্গে ‘ম্যাপ’ করার কথা বলা হয়েছিল।

ব্যাখ্যা

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ওই ঘোষণাপত্র সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে। পাশাপাশি কমিশন জানিয়েছে, SIR না চলার সময়ে রেজিস্ট্রেশন অব ইলেক্টোরালস রুল, ১৯৬০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্মগুলিই ব্যবহার করা হবে।

অভিযোগ

ECINET পোর্টালের কাজকর্ম নানারকম অভিযোগ উঠেছিল

ব্যাখ্যা

ECINET-এর কাজকর্ম পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একজন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি এই পর্যালোচনা করবে। কমিটিতে IIT অথবা IIIT-এর একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞও থাকবেন। মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের কাজের জন্য আরও কোনও সুবিধার প্রয়োজন হলে তা কার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।

এছাড়া, ভবিষ্যতে আইটি মডিউল ও পোর্টাল সংক্রান্ত নতুন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রথমে আধিকারিকদের কমিটিতে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। তারপর অনুমোদনের জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সামনে পেশ করা হবে।

অভিযোগ

গোয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ৯৭ জন ভোটারদের নাম বাদ পড়া নিয়েও বিতর্কের মধ্যে পড়তে হয় কমিশনকে।

ব্যাখ্যা

কমিশন জানিয়েছে, গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক BLO-দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই ভোটারদের ফর্ম সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই ৯৭ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮১ জন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন।

কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজেও পরিবর্তন

নিজেদের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম আরও শক্তিশালী করার জন্য কয়েকটি নতুন পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে কমিশনের প্রতিটি বৈঠকের আলোচ্যসূচি বা ‘এজেন্ডা’ আগেই সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। বৈঠকের পর ‘মিনিটস’ বা কার্যবিবরণীও প্রকাশ করা হবে।

একইসঙ্গে কমিশনাররা আধিকারিকদের যে সমস্ত নির্দেশ দেবেন, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us