
নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপতি শাসন! বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এই শব্দবন্ধনী ফিরে এসেছে বারংবার। কখনও আরজি কর, কখনও এসআইআর, অবশেষে বাংলার আসন্ন নির্বাচন। রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জিইয়ে রেখেছে বিরোধী শিবির। সিভি আনন্দ বোসের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফার মধ্য়ে দিয়ে সেই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিতে পারছেন না শাসক শিবিরও। কিন্তু এই রাষ্ট্রপতি শাসন বিষয়টা কী? কোন ক্ষমতাবলে জারি হয়? নাগরিক জীবনেই বা কতটা প্রভাব ফেলে?
সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির বিধান রয়েছে। যে কোনও রাজ্যে জারি করা হতে পারে ৩৫৬। সাংবিধানিক ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে, রাজ্যের বিধানসভা অচল হলেই ৩৫৬ জারির সুপারিশ করেন রাজ্যপাল। সাম্প্রতিক অতীত মহারাষ্ট্র, মণিপুরের ক্ষেত্রেও এই একই ধারা দেখা গিয়েছিল। এই সময়কালে কার্যনির্বাহী প্রধান হিসাবে প্রশাসন চালান রাজ্যপাল। রাষ্ট্রপতি নজরদারি করেন।
তবে ৩৫৬ অনুচ্ছেদ জারি হওয়ার দু’মাসের মধ্য়ে সংসদের কাছে অনুমোদন নিতে হয় তাঁকে। আর সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকা সম্ভব। সেক্ষেত্রে প্রতি ছয় মাস অন্তর মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন নিতে হয়। অবশ্য, রাষ্ট্রপতি শাসন বাতিলের ক্ষমতা একমাত্র রয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছেই। এই পরিসরে সংসদের সম্মতির প্রয়োজন নেই।
খুব সহজ ভাষায়, রাষ্ট্রপতি শাসন রাজ্য সরকারের ক্ষমতাকে একেবারে ছিনিয়ে নেয়। এই সময়কালে সম্পূর্ণ ক্ষমতার রাজ্যপালের কাছে হস্তান্তর হয়ে যায়। কিন্তু সর্বেসর্বা থাকেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর নজরদারিতেই চলে একটা গোটা রাজ্য। রাজ্যের আর্থিক তহবিল, প্রশাসন — সবেতেই থাকে রাষ্ট্রপতির কর্তৃত্ব। কিন্তু এই ৩৫৬ অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা কি সম্ভব? এই মর্মে এক সময় টিভি৯ বাংলাকে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত বলেছিলেন, “জুডিশিয়াল রিভিউ এই রাষ্ট্রপতি শাসনের হতেই পারে। যদি কেউ এই রাষ্ট্রপতি শাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে যান। আদালত তখন দেখবে, এর যৌক্তিকতা কোথায়?” আর নাগরিক জীবন? দেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে নাগরিক জীবনে বিশেষ প্রভাব পড়ে না। নাগরিকের মৌলিক অধিকার ৩৫৬ অনুচ্ছেদ খর্ব করে না।