Jay Singh Rathore Case: বোনের চিকিৎসার সাহায্য চেয়ে এক্সে পোস্ট, ১.৫ লক্ষ টাকা পেতেই ফাঁস আসল রহস্য

Money Scam: অন্য একটি পোস্টও সবার ফিডে আসে, যা পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ১৬ বছর বয়সী একজন কিশোর, যে তার ছোটবোনের জন্য সাহায্য চেয়েছিল। পোস্টে দাবি করা হয়, তার ১২ বছর বয়সী বোনের গ্লুকোমা ও ভিট্রিয়াস হেমোরেজ (চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ) হয়েছে ও তার চিকিৎসার জন্য পরিবার ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ করে ফেলেছে।

Jay Singh Rathore Case: বোনের চিকিৎসার সাহায্য চেয়ে এক্সে পোস্ট, ১.৫ লক্ষ টাকা পেতেই ফাঁস আসল রহস্য
সাইবার ক্রাইমImage Credit source: Getty Images

|

Sep 24, 2026 | 4:34 PM

নয়াদিল্লি: এই সোশাল মিডিয়া বড়ই অদ্ভুত। কখনও এই সোশাল মিডিয়া থেকেই কেউ কেউ পেয়ে যান নিজের জীবনসঙ্গী, আবার সোশাল মিডিয়াই কেড়ে নেয় কারও কারও ব্যক্তিগত সব সম্পত্তিও। এই সোশাল মিডিয়াই আবার চর্চায়। কারণ, এবার নিজের বোনের চোখের অস্ত্রোপচারের নাম করে একজন প্রায় দেড় লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছেন। এর মূলে আছে, ক্রাউড ফান্ডরেইজিং।

কী ঘটেছে?

জয় সিং রাঠোর নামে একজন দাবি করেন, তাঁর বোনের চোখের সমস্যা আছে ও এই সমস্যা মেটানোর জন্য জটিল অস্ত্রোপ্রচার করতে হবে। তিনি ওষুধের প্রেসক্রিপশনসহ একটি অনলাইন কিউআর কোড এক্সে আপলোড করেন। একদিনের মধ্যেই তাঁকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা পাঠান নেটিজেনরা। পরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ চলে আসার পর তিনি সেই কিউ আর কোডটি তুলে নেন। এরপরেই অনেকে এই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু করেন। এরপরেই আসল ঘটনা জানা যায়।

আসল বিষয়টি কী?

রাঠোরের শেয়ার করা চিকিৎসা সংক্রান্ত নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা শুরু করেন নেটিজেনদের একাংশ। পরে Shroff Eye Centre-এর তরফে একটি প্রকাশ্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তারা জানায়, তাদের হাসপাতালের লেটারহেড ব্যবহার করে ভুয়ো রোগীর রেকর্ড, প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার খরচের পত্র তৈরি করা হয়েছিল। এআই ব্যবহার করে এগুলি বানানো হয়। এরপরেই সোশাল মিডিয়াতে ঐ ফান্ডরেইজিং-এর আবেদন ও চিকিৎসার নথি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপরে আবার অন্য একটি পোস্টও সবার ফিডে আসে, যা পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ১৬ বছর বয়সী একজন কিশোর, যে তার ছোটবোনের জন্য সাহায্য চেয়েছিল। পোস্টে দাবি করা হয়, তার ১২ বছর বয়সী বোনের গ্লুকোমা ও ভিট্রিয়াস হেমোরেজ (চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ) হয়েছে ও তার চিকিৎসার জন্য পরিবার ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ করে ফেলেছে। সে জানিয়েছিল, মোট ৫ লক্ষ টাকা জোগাড় করা গেলেও বাকিটা আর হচ্ছে না।

কীভাবে ঘটনার মোড় ঘুরল?

সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে, যখন শ্রফ আই সেন্টার এই বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে জানায়, যে এটি ভুয়ো প্রেসক্রিপশন। এটা ব্যবহার করে কেউ ভুয়ো আর্থিক খরচ ও ওষুধ-পরীক্ষা সম্পর্কে জানিয়েছে ও আর্থিক সাহায্যের নামে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে। কেউ যাতে এই প্রতারণার শিকার না হন, সেই বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলা হচ্ছে।
প্রশ্ন বাড়তে থাকায়, উত্তর দিতে এক্স-এ যোগ দেন রাঠোর। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ ও এক উত্তপ্ত বিতর্ক, যেখানে নেটিজেনরা সব বিষয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাঠোর বলেন, সেই সময় তিনি বোনের কথা বললেও আসলে তাঁর বাবার চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার ছিল। তাই তিনি নিজের এই কাজকে ভুল বলে স্বীকার করছেন ও সংগৃহীত অর্থের কিছুটা অংশ তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

সমগ্র ঘটনাটির এত জলদি পটভূমি বদলের কারণেই এটি এত ভাইরাল হয়েছে। একটি অর্থের অভাবে লড়াই করা পরিবারের ঘটনা দিয়ে শুরু হলেও অজানা-অচেনা মানুষের আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ডোনেট করা – ঘটনার মোড় ঘুরেছে। একাধিক ঘটনা এই জয় সিং রাঠোরকে চর্চায় নিয়ে এসেছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us