
নয়া দিল্লি : ভোর তখন ৪টে। ছুটির রবিবার। তখন সকলে গভীর নিদ্রায়। কিন্তু, এই ঘুম যে আর ভাঙবে না, তা কেই বা জানত। দিল্লিতে (Delhi Fire) এক বহুতলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হল ৯ জনের। তাঁদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে বলে খবর। আহত হয়েছেন বহু। আজ ভোরেই দিল্লির বিবেক বিহার এলাকার ওই চারতলা ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগে (Delhi Fire Breaks out)। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আগুনের গ্রাসে বহুতলের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১৪টি ইঞ্জিন। আগুন এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কীভাবে আগুন লাগে বহুতলে?
বিবেক বিহার পূর্ব দিল্লির অন্যতম জনবহুল এলাকা। সেখানেই ছিল ওই বহুতল। জানা গিয়েছে, আজ ভোর চারটে নাগাদ বহুতলের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। তারপর তা দ্রুত তৃতীয় ও চতুর্থ তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে। সেইসময় ওই বিল্ডিংয়ে আটকে ছিলেন বহু মানুষ। নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ঘরের জালনা দিয়েও বেরোনোর চেষ্টা করেন অনেকে। কিন্তু সম্ভব হয়নি। অনেকের ঘুমের মধ্যেই ঝলসে মৃত্যু হয়েছে। আবার কারও ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। বহুতল থেকে একের পর এক মৃতদেহ বের করে আনেন দমকলকর্মীরা।
দিল্লিতে মৃত্যুমিছিল
সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে দ্বিতীয় তলায়। একই পরিবারের পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতেরা হলেন, অরবিন্দ জৈন (৬০), স্ত্রী অনিতা জৈন (৫৮), অরবিন্দের ছেলে নিশান্ত জৈন (৩৫), নিশান্তের স্ত্রী আঁচল জৈন (৩৩) এবং তাঁদের ছেলে আকাশ জৈন (দেড় বছর)। তৃতীয় তলায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। মৃতেরা হলেন নীতিন জৈন (৫০), স্ত্রী শৈলী জৈন (৪৮) এবং তাঁদের ছেলে সাম্যক জৈন (২৫)। বাকিদের গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কীভাবে আগুন লাগে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে, এক বাসিন্দার দাবি, এসি বিস্ফোরণের কারণে আগুন লাগতে পারে বহুতলে। তবে, কী কারণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি লেখেন, “বিবেক বিহারের একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। গভীরভাবে শোকাহত। দুর্ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।” একইসঙ্গে তিনি জানান, পরিস্থিতির উপর ক্রমাগত নজর রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে রয়েছে দিল্লি সরকার।