পাহাড় থেকে নেমে আসছে পাথর, ফিরতে নারাজ সাংসদ! প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই ধস পেরিয়ে পৌঁছলেন বিজেপি কর্মীদের কাছে

Uttarakhand Landslide: সাংসদ বলেন, "আবহাওয়া খারাপ হতে পারে, রাস্তা বিপজ্জনক হতে পারে কিংবা সামনে বড় বাধা আসতে পারে—কিন্তু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাঁদের সেবা করার সংকল্প অটুট থাকবে।" তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও জনসেবার প্রতি এই দায়বদ্ধতাই বিজেপির কর্মীদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

পাহাড় থেকে নেমে আসছে পাথর, ফিরতে নারাজ সাংসদ! প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই ধস পেরিয়ে পৌঁছলেন বিজেপি কর্মীদের কাছে
প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার বিজেপি সাংসদের।Image Credit source: X

|

Sep 28, 2026 | 7:23 AM

দেহরাদুন: জনসেবার পথে বাধা আসবেই। কখনও প্রতিকূল আবহাওয়া, কখনও দুর্গম রাস্তা, আবার কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ- তবে সবকিছুর মধ্যেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাই আসল দায়িত্ব। এই বার্তা যে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন, তার প্রমাণ দিলেন লোকসভার সাংসদ অনিল বালুনি। লোকসভা কেন্দ্র সফরের সময় ভয়ঙ্কর ভূমিধসের মুখে পড়েও নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল না করে রিখনিকালে পৌঁছে কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

উত্তরাখণ্ডের গাড়ওয়ালের সাংসদ অনিল বালুনি। আগে তিনি রাজ্যসভার সাংসদও ছিলেন। লোকসভা কেন্দ্র সফরের সময় বাডিয়ুন গ্রাম থেকে রিখনিকালের দিকে যাচ্ছিলেন ওই বিজেপি নেতা। বাডিয়ুন গ্রামটি  বীর যোদ্ধা এবং শহিদ যশবন্ত সিং রাওয়াতের গ্রাম। সেখান থেকে রিখনিকালের পথে সিমডির কাছে আচমকাই বড়সড় ভূমিধস নামে।

জানা গিয়েছে, সিমডির কাছে আচমকাই পাহাড় থেকে প্রচুর মাটি, পাথর এবং বড় বড় বোল্ডার পড়তে শুরু করে। ধসের জেরে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে, রাস্তা পরিষ্কার করতে গিয়ে পূর্ত দফতর (PWD)-এর দু’টি জেসিবি (JCB) মেশিনও সমস্যায় পড়ে।

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সঙ্গে থাকা কর্মী ও সহযোগীরা তাঁকে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু রিখনিকালে তাঁর আগে থেকেই কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে একটি বৈঠক নির্ধারিত ছিল। বহু মানুষ সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলেন।

ফলে ফিরে না গিয়ে ঝুঁকি নিয়েই ধস কবলিত রাস্তা পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তখনও পাহাড় থেকে পাথর ও ধসে পড়ছিল। কোনও মতে রাস্তার ওই বিপজ্জনক অংশ পার হওয়ার পর সামনে যাওয়ার জন্য অন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়।

শেষ পর্যন্ত বিকেল প্রায় ৪টে নাগাদ রিখনিকালে পৌঁছন ওই বিজেপি নেতা। সেখানে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী দলের কর্মী এবং স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে দেখা করেন ও বৈঠকে যোগ দেন।

পরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “জনসেবার পথে প্রতিটি কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিকে নানা ধরনের সংকট ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়। কখনও আবহাওয়া প্রতিকূল হয়, কখনও রাস্তা দুর্গম হয়ে ওঠে, আবার কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামনে এসে দাঁড়ায়।”

তাঁর বক্তব্য, “সেই মুহূর্তে ফিরে গেলে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয়ে যেত। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা কর্মী ও নাগরিকদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক করা সম্ভব হত না।”

তিনি আরও বলেন, “আবহাওয়া খারাপ হতে পারে, রাস্তা বিপজ্জনক হতে পারে কিংবা সামনে বড় বাধা আসতে পারে—কিন্তু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাঁদের সেবা করার সংকল্প অটুট থাকবে।” তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও জনসেবার প্রতি এই দায়বদ্ধতাই বিজেপির কর্মীদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us