
গ্রেটার নয়ডা: নাকে পোড়া গন্ধ আসছিল অনেকক্ষণ ধরে। চালক ও কন্ডাক্টরকে বারবার বাস থামানোর কথা বললেও, তারা বাস থামাননি। ৩০-৩৫ জন যাত্রীকে নিয়ে ছুটতে থাকে বাস। তারপরই বীভৎস বিস্ফোরণ। দাউদাউ করে পুড়ে গেল আস্ত বাস। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের উপরে জ্বলে যাওয়া বাসটিকে ঘিরে ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এল। জানা গেল, চালককে বাস থামাতে বললেও, তিনি বলেছিলেন, “বাস থামাবো না। মরার হলে মরে যাও।”
গ্রেটার নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে বাসে আগুন লাগার ঘটনায় নয়জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে যান চালক ও কন্ডাক্টর। তাদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেওয়ার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ যখন যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের ৩৩ কিলোমিটারের মার্ক ক্রস করছিল, সেই সময় যাত্রীদের নাকে পোড়া গন্ধ আসে। অল্প অল্প ধোঁয়া নজরে আসে। এরপরই তারা চালক ও কন্ডাক্টরকে খবর দেন। তারা বাস দাঁড় করাতে বললে, তারা সেই কথায় কানই দেননি। উল্টে চালক বলেন, “যদি মরার হয়, মরুন। আমরা বাস দাঁড় করাব না।”
এফআইআরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ড্রাইভার ও কন্ডাক্টর বাসের কেবিনে বিড়ি, সিগারেট খাচ্ছিলেন। তারা উল্টে যাত্রীদেরই ধমকান। এরপর হঠাতই ড্রাইভারের সিটের কাছ থেকে আগুনের ফুলকি ওঠে।
জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের মাহোবা যাচ্ছিল বাসটি। আচমকা আগুন লেগে যায়, ঘন ধোঁয়ায় ভরে যায় বাস। এর জেরেই নয়জন যাত্রীর মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বাসের এয়ার কন্ডিশনার সিস্টেমে বিস্ফোরণ হওয়ার কারণে আগুন লাগে। ইঞ্জিনের লুব্রিকেটিং তেলে আগুন আরও বেড়ে যায়। এছাড়া বাসের লাগেজ কম্পার্টমেন্টে পেইন্ট থিনার ছিল, যা অতি দাহ্য পদার্থ।