
নয়া দিল্লি: আইডিবিআই ছিল সরকারি ব্যাঙ্ক। ২০১৯ সালে ৪৯ শতাংশ শেয়ার হাতে নিয়ে এলআইসি হয়ে যায় এই ব্যাঙ্কের প্রোমোটার। কেন্দ্রীয় সরকারের শেয়ার কমে দাঁড়ায় ৪৫ শতাংশ। সরকারি থেকে বেসরকারি ব্যাঙ্কে পরিণত হয় আইডিবিআই। তখন বিরোধীদের অভিযোগ ছিল যে লাভজনক সংস্থা এলআইসি-কে সরকার ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে। তার ফলে সঞ্চয়ের টাকাও ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছে।
প্রায় সাড়ে সাত বছর পর এই আইডিবিআই ব্যাঙ্কের হাত ধরেই ভারতে আসতে চলেছে একলপ্তে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ। প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকায় আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬১ শতাংশ শেয়ার কিনে নিচ্ছে কানাডার সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিনানশিয়াল হোল্ডিংস। শেয়ার হস্তান্তরের ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
বলা হয়েছে বাজারের হিসাবে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের একটা শেয়ারের মূল্য ৭৬ টাকা হলেও কানাডার সংস্থা ৮১ টাকা দাম দিচ্ছে। শেয়ার হস্তান্তরের কাজ এই অর্থবর্ষের মধ্যেই শেষ হবে বলে সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে। তারপর ব্যাঙ্কে সরকার ও এলআইসি-র মিলিত অংশীদারি কমে গিয়ে থাকবে ৩৪ শতাংশের মতো।
এই চুক্তিতে সাত বছর আগের যাবতীয় সংশয় মুছে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আর এলআইসি, দু-পক্ষই আর্থিকভাবে বিশাল লাভবান হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন অবশ্য জানিয়েছেন, কোথাও কোনও চিন্তার কারণ নেই। ফেয়ারফ্যাক্স আগামী ৩ বছর ব্যাঙ্কের নাম বদলাতে পারবে না। তাছাড়া ৩৪ শতাংশ শেয়ার হাতে থাকায় ব্যাঙ্কের ওপর থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ একেবারে
চলে যাচ্ছে না।
আগামী ২১ অক্টোবর প্রথমবার বাজারে আসতে চলেছে রিলায়েন্স জিয়োর শেয়ার। এর মাধ্যমে তারা বাজার থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা তোলার টার্গেট নিয়েছে। সেটা হলে এটাই হবে দেশের বৃহত্তম আইপিও। গত সপ্তাহেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট বাড়িয়েছে। জিনিসের দাম বাড়ায় তারা সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। হালফিল আইএমএফ, এই অর্থবর্ষে ভারতে আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ দশমিক ৪ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে। রেটিং এজেন্সিগুলোর কাছেও ভারতের অর্থনীতির অবস্থা স্থিতিশীল। যুদ্ধের বাজারে যা কিন্তু ভাল বলে মানতেই হবে। কিছু বলতে গেলে সরকারও এই ধরনের ম্যাক্রো-ইকনমিক স্টেবিলিটির কথা বলে সবকিছু ঠিক আছে বোঝাতে চাইবে।