
নয়া দিল্লি: এসআইআর-এর শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে নথি হিসাবে আধার কার্ড ও অ্যাডমিট কার্ড গণ্য হবে। মঙ্গলবার তা জানিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি জে. ভিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আধার কার্ড এবং অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মান্যতা পাবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘কাট অফ ডেট’ অনুযায়ী ডকুমেন্টস গৃহীত হবে। দায়িত্বে থাকা জুডিশিয়াল অফিসারকে তথ্য এবং ডকুমেন্টস এর গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বোঝানোর দায়িত্ব থাকবে ERO এবং AERO র। কিন্তু এই বিষয়টিতেই আপত্তি রয়েছে জনস্বার্থ মামলাকারী আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে আধার জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। এখন এ বিষয়ে নির্ধারণ করার সঠিক সময় নয়।” আর এই বিষয়টিকেও ইস্যু করছে বিজেপি। বিজেপি-র বক্তব্য, নথি যাচাই করছেন বিচারকরা। তারপরও যদি ভোটার তালিকায় একজনও ভূতুড়ে ভোটার থেকে থাকে, তাহলে তার দায় সুপ্রিম কোর্টের।
বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা বারবার বলে আসছিলাম, বাংলায় জনসংখ্যার যে গ্রোথ, তার থেকে আধার পপুলেশন বহু পিন কোডে, বহু ক্ষেত্রে অনেকটা বেশি। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেই মূলত বেশি। তাঁদের আর ২০০২ সালের কোনও নথি নেই। তার পরবর্তীকালের কোনও নথি নেই। তিনি শুধু আধার কার্ডটাই বানিয়ে নিয়েছেন। এটাই সন্দেহজনক।”
আর এই বিষয়টির রেশ টেনে জগন্নাথ বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের স্ক্রুটিনিতে এখন যখন পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হতে চলেছে, তখন এটা বিচারকরা ঠিক করবেন। তবে মনে রাখতে হবে, বিচারকদেরও যদি কোনও ভুল হয়, তাহলে বিচারকরাও আইনের আতস কাচের নীচে চলে আসবেন। আর পাঁচ বছর পর যদি দেখা যায়, বিচারকদের হাত দিয়ে গলে গিয়েছেন কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, কোনও ভূতুড়ে ভোটার, তার দায় সুপ্রিম কোর্টকেই নিতে হবে।”
এদিনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় বলেন, “বাংলার ক্ষেত্রে আধার কার্ডের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মহরাষ্ট্র, গুজরাট, কেরল, কাশ্মীর-গোটা দেশে যেখান থেকেই রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিদের ধরা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে যে নথি উদ্ধার হয়, সেটা পশ্চিমবঙ্গেরই। আধার অ্যাক্টে লেখা রয়েছে, কোনও বিদেশি ৬ মাসের বেশি ভারতে থাকতেই আধার কার্ড বানাতে পারবেন। এই আইনের অপব্যবহার করেই ওরা ২ হাজার টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড বানিয়ে নিচ্ছে।”
যদিও এদিন আধার কার্ড প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যদি ব্যাপক মাত্রায় আধার জালিয়াতি হয়ে থাকে, তার জন্য আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। সলিসিটর জেনারেলকে কেন্দ্রীয় সরকারকে বলতে হবে, তার জন্য জনপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধন করতে। যদি অন্যায় ভাবে কোন রিসিট তৈরি করা হয়, তাহলে ERO তা দেখবে।