
নয়া দিল্লি: দেশবাসীর কাছে আর্জি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। আগামী এক বছর কোনও সোনার গহনা কিনতে বারণ করলেন তিনি। ভারতবাসী যেখানে সোনা এত ভালোবাসেন, বিয়ে বা অন্য কোনও শুভ অনুষ্ঠানে সোনার গহনা পরা চাই-ই চাই, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদন শুনতে অদ্ভুত লেগেছে অনেকের। তবে এই অনুরোধের পিছনে রয়েছে বড় উদ্বেগ। দেশের অর্থনীতির চিন্তা।
বিশ্ব জুড়ে অস্থিরতা, একের পর এক যুদ্ধের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিও টালমাটাল। সম্প্রতি ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের জেরে বিশ্ব জুড়ে শুধু যে শক্তি সঙ্কট দেখা দিয়েছে, তাই-ই নয়, ভারতের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভের উপরেও চাপ তৈরি হচ্ছে। ডলারের সাপেক্ষে দুর্বল হচ্ছে ভারতীয় রুপি।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে এখনও অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। তার জেরে বিশ্ব জুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব বাজারে ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এত চাপের মাঝেও ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। বরং প্রধানমন্ত্রী মোদী তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা করার বদলে গাড়ি কম ব্যবহার করে পেট্রোল-ডিজেল কম খরচেরই পরামর্শ দিয়েছেন।
ভারত তেল যেমন বিদেশ থেকে আমদানি করে, তেমনই সোনাও আমদানি করা হয় বিদেশ থেকেই। তেল ও সোনা- উভয়ই কিনতে হয় মার্কিন ডলারে। যেহেতু ভারতের মুদ্রা ডলারের সাপেক্ষে দুর্বল হচ্ছে, তাই এখন সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে বলছেন প্রধানমন্ত্রী।
যখন ক্রুড তেলের দাম বাড়ে, সোনার আমদানি বাড়ে, তখন ভারতকে বেশি ডলার খরচ করতে হয় তেল ও সোনা আমদানি করার জন্য। ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। চাপ তৈরি হয় ভারতীয় মুদ্রার উপরে।
ক্রুড তেল থেকে পরিশোধিত তেল পরিবহন থেকে শুরু করে বিদ্য়ুৎ, শিল্পক্ষেত্র- সব জায়গায় ব্যবহার হয়। তাই চাইলেই ভারত তেলের আমদানি কমিয়ে ফেলতে পারে না। সেখানেই সোনা অনেকাংশেই কেনা হয় সঞ্চয়ের জন্য। বিশ্বজুড়ে সঙ্কটের মধ্যেও যদি সোনা কেনা হয়, তাহলে সরকারকেও বাধ্য হয়ে সোনা আমদানি করতে হয়। ভারতের পকেট থেকে ডলার ফাঁকা হয়ে যায়। দেশের অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়ে। আমদানি-রফতানিতে ফারাক তৈরি হয়। ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রা আরও দুর্বল হতে পারে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও আর্থিক সঙ্কটের সময় ভারত সরকার সোনা আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি, আমদানি নিয়ন্ত্রিত করা থেকে শুরু করে সভেরেন গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্পের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
মধ্য় প্রাচ্যের সঙ্কটের জেরে ইতিমধ্যে ক্রুড তেলের দাম অনেকটা বেড়েছে। সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এই সময়ে যদি সোনা কেনা হয়, সোনা আমদানি করা হয়, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিতে আরও প্রভাব ফেলবে। তাই বিয়ের মরশুম এলেও, এই বছর অতিরিক্ত খরচ করে সোনা না কেনাই শ্রেয়।