
যুদ্ধ এখন আকাশে, মাটিতে, সমুদ্রে। লড়াইটা জীবাণুদের সঙ্গেও। হয়ত আর কিছুদিনের মধ্যেই আমরা মহাকাশ যুদ্ধের ট্রেলারও দেখে ফেলব। সঙ্গে নেট দুনিয়াতেও পুরোমাত্রায় যুদ্ধের আবহ। ভারতের বিভিন্ন তথ্যভান্ডারে বারবার হানা দিচ্ছে সাইবার হ্যাকাররা। কিছুদিন আগেই বিভিন্ন বিমানসংস্থার কাছে বিমানে বোমা রাখা আছে বলে পরপর মেসেজ আসছিল। পরে দেখা যায়, সবকটাই ভুয়ো মেসেজ। তবে সারা দেশেই বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। বিমান সংস্থাগুলো কোটি কোটি টাকা ক্ষতির মুখেও পড়ে। যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
গোটা দেশেও রোজ অসংখ্য সাধারণ মানুষের ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হওয়া তো আছেই। তবে এটি সিভিলিয়ান লাইফ বা সাধারণ মানুষের জীবনের একটা দিক।
এরই সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রতিরক্ষার বিষয়টিও। মূলত চিন-পাকিস্তানের হ্যাকাররা ইসরোর মতো দেশের প্রথম সারির নানা সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরাসরি বা প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আছে, বা সরাসরি ভারতীয় সেনার ওয়েবসাইট হ্যাক করার চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে। দিন দিন বেড়ে চলেছে বিপদ। রোজ নতুন নতুন বিপদ আসছে। যে কোনও দেশের তথ্যভাণ্ডারই সেই দেশের কাছে, বলা যায় প্রাণভোমরা। তাই এই তথ্যভাণ্ডারকে সুরক্ষিত রাখাই শুধু নয়, একইসঙ্গে সেখানে শত্রুরা হামলা চালালে তার জবাব দেওয়াটাও যে কোনও দেশের সুরক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে। সেটা যদি সামরিক তথ্যভাণ্ডার হয় তো তার গুরুত্ব আরও বেশি। ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। ভারতের সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত যে কোনও সিক্রেট ডেটাবেসকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ শুরু করেছে Command Cyber Operations and Support Wings। যা ভারতীয় সেনার একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট।
প্রতিরক্ষা বিভাগগুলির নিজেদের মধ্যে কমিউনিকেশনকে নিরাপদ রাখার দায়িত্বও এই ইউনিটের ওপর। আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শত্রু দেশ যাতে তথ্য হাতাতে না পারে, আপাতত সেটাই প্রধান চিন্তা। এই কারণে পাল্টা একাধিক এআই নির্ভর টুলসও তৈরি হয়ে গিয়েছে। আর অসামরিক ক্ষেত্রে সাইবার হানার মোকাবিলার কাজও চলছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারা দেশে ৫ হাজার সাইবার কমান্ডো তৈরি করা হবে। কেন্দ্র-রাজ্যের ফোর্স থেকে বাছাই করা কর্মীদের আইআইটি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলোয় ট্রেনিংয়ের কাজ চলবে। প্রথম ধাপে পাস করে বেরোবেন আড়াইশো সাইবার কমান্ডো।