
নয়াদিল্লি : ভারতের জন্য ফের স্বস্তির খবর। হরমুজ পেরিয়ে আরও এক তেলবাহী ট্যাঙ্কার এগিয়ে আসছে ভারতের দিকে। ইতিমধ্যেই হরমুজ়ে ভারতের একাধিক তেলবাহী জাহাজকে পারাপারে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এদিকে, প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি নিয়ে ভারতে এগিয়ে আসছে দু’টি জাহাজ। আজই ভারতের বন্দরে একটি জাহাজ পৌঁছবে বলে জানা গিয়েছে। এরই মধ্যে আরও একটা ভাল খবর ভারতের জন্য। আরও ৮০ হাজার টনের বেশি তেল টাঙ্কার ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে।
জানা গিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা বন্দর থেকে নিরাপদে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতের একটি তেল ট্যাঙ্কার। ট্যাঙ্কারটির নাম জগ লড়কি। ওই জাহাজে প্রায় ৮০ হাজার ৮০০ টন ক্রুড তেল রয়েছে। তবে, এই জাহাজটি হামলার শিকার হয়েছিল। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ যখন ভারতীয় জাহাজ জগ লড়কি ফুজাইরাহ সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং-এ অপরিশোধিত তেল লোড করছিল, তখন ওই ট্যাঙ্কারে আক্রমণ করা হয়। তবে, রবিবার ভারতীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জাহাজটি ফুজাইরাহ থেকে নিরাপদে যাত্রা শুরু করেছে। প্রায় ৮০ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। জাহাজটি এবং জাহাজে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।” জাহাজটি হামলার মুখে পড়লেও কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভারতীয় জাহাজকে নিরাপত্তা দিতে সমুদ্রপথে ওই এলাকায় অপারেশন সংকল্প চালাচ্ছে ভারতীয় নৌ-বাহিনী।
ভারতে প্রায় একসঙ্গে ঢুকতে চলেছে দু’টি জাহাজ। আজ ১৬ মার্চ মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছবে শিবালিক। আবার ১৭ মার্চ কান্দলা বন্দরে পৌঁছবে নন্দদেবী। ইতিমধ্যেই ১.৪ লক্ষ মেট্রিক টন সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল নিয়ে মুম্বই উপকূলে পৌঁছেছে লিবেরিয়ার তৈলবাহী জাহাজ সেনলং সুয়েজম্যাক্স। পাশাপাশি ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন নিয়ে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে ভারতীয় জাহাজ জগপ্রকাশও। তবে, এখনও পর্যন্ত হরমুজে আটকে রয়েছে মোট ২২টি জাহাজ।
উল্লেখ্য, দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। গ্যাস সংকট ইস্যুতে সংসদে ফের বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকট নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানাচ্ছেন বিরোধীরা। যদিও, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদন বেড়েছে। ইতিমধ্যেই ৯০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি আসছে ভারতে। একইসঙ্গে সরকার দাবি করেছে, গৃহস্থের রান্নার গ্যাস পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। দিনে প্রায় এক লাখ টাকা প্যানিক বুকিং কমেছে।